© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শিল্পী হিসাবে আমাদের উপর অনেক চাপ থাকে: শ্রাবন্তী

শেয়ার করুন:
শিল্পী হিসাবে আমাদের উপর অনেক চাপ থাকে: শ্রাবন্তী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১১ পিএম | ০৯ মে, ২০২৬
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। নতুন সরকার গঠনের পর যখন রাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ, ঠিক তখনই নিজের অনুভূতি, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং শিল্পীদের বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথের খবর শুনে প্রথমেই যে মুখটা তাঁর চোখে ভেসে উঠেছিল, তিনি আর কেউ নন, অভয়ার মা। শ্রাবন্তীর কথায়, একজন মা হিসেবে তিনি চান নির্যাতিতার পরিবার যেন বিচার পায়। সেই মায়ের লড়াইয়ের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলেও জানান অভিনেত্রী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যদি সত্যিই বাংলার ভালোর জন্য পরিবর্তন আসে, তাহলে সেই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাতেই হবে।



নির্বাচনের সময় তৃণমূলের প্রচারে দেখা গিয়েছিল শ্রাবন্তীকে। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই অভিনেত্রী বলেন, তিনি একজন শিল্পী হিসেবেই প্রচারে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, শিল্পীদের উপর নানা ধরনের চাপ থাকে। শুধু তিনি নন, আরও অনেক শিল্পীই দলের আহ্বানে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। তবে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা তাঁর ছিল না বলেই স্পষ্ট জানান তিনি।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন শ্রাবন্তী। সেই নির্বাচনে হারের স্মৃতিও এখনও ভুলতে পারেননি তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, বেহালা তাঁর নিজের এলাকা, শৈশব থেকে বেড়ে ওঠার সব স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে সেখানে। তাই সেই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত ছিলেন। কিন্তু মানুষ তাঁকে গ্রহণ করেনি, সেই রায় মাথা পেতে নিয়েছিলেন।

তবে পরবর্তীতে বিরোধী প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর তাঁর আক্ষেপ আরও বেড়েছিল। শ্রাবন্তীর মনে হয়েছিল, মানুষ যদি তাঁকে একটু বিশ্বাস করতেন, তাহলে হয়তো ভাল কাজ করার সুযোগ পেতেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার পরই তিনি বুঝে যান, রাজনীতি তাঁর জায়গা নয়।

রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে দূরে থাকলেও শিল্পীদের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ লুকাননি অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, শিল্পীদের নিয়ে কুৎসা, ট্রোলিং এবং নানা সমালোচনা করা হলেও তাঁদের বাস্তব চাপের কথা কেউ ভাবেন না। ইন্ডাস্ট্রিতে গ্রুপবাজি ও লবির রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি। শ্রাবন্তীর আশা, ভবিষ্যতে যেন কোনও শিল্পীকে আর কাজ থেকে বঞ্চিত হতে না হয়।

নতুন সরকারের কাছে নিজের প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। নারী নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন তিনি।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন