© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

১১ বছর পরেও দর্শকের মনে একই ভাবে জায়গা করে রেখেছে ‘পিকু’

শেয়ার করুন:
১১ বছর পরেও দর্শকের মনে একই ভাবে জায়গা করে রেখেছে ‘পিকু’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:১৭ এএম | ১১ মে, ২০২৬
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এমন কিছু ছবি থাকে, যেগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তেমনই এক ছবি পিকু। পরিচালক সুজিত সরকার নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির এক দশক পরেও দর্শকের মনে একইভাবে জায়গা করে রেখেছে।

২০১৫ সালে মুক্তির সময় ‘পিকু’কে অনেকেই সাধারণ পারিবারিক গল্প বলেই মনে করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছবিটি হয়ে উঠেছে সম্পর্ক, দায়িত্ব, ভালোবাসা আর দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতার এক অনন্য দলিল। পরিবারের ভেতরের টানাপোড়েন, একে অপরের প্রতি যত্ন আর ছোট ছোট অভিমানের মধ্যেও যে গভীর ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে, তা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিল এই ছবি।

ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্রে ছিলেন অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। তখন তিনি ছিলেন বলিউডের ব্যস্ততম নায়িকাদের একজন। সময়ের সঙ্গে তাঁর জীবনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন তিনি মাতৃত্বের দায়িত্বে রয়েছেন এবং জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রেখেছেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আজ ‘পিকু’-র পেরেন্টিং ও দায়িত্ববোধের আবেগ আরও বেশি বাস্তব বলে মনে হয় অনেকের।

তবে এই ছবিকে ঘিরে দর্শকের আবেগে সবচেয়ে বড় শূন্যতা তৈরি করে গিয়েছেন অভিনেতা ইরফান খান। তাঁর স্বাভাবিক, সংযত এবং অনায়াস অভিনয় আজও দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। অতিরিক্ত সংলাপ নয়, বরং নিঃশব্দ উপস্থিতিতেই তিনি চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন। তাই আজও ‘পিকু’ দেখলে এক ধরনের মিশ্র অনুভূতি কাজ করে দর্শকের মনে।

ছবিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, যাঁর সঙ্গে দীপিকা ও ইরফানের রসায়ন ছবিটিকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তিনজনের স্বাভাবিক অভিনয় যেন বাস্তব জীবনেরই প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছিল।



সময়ের সঙ্গে শহর বদলেছে, মানুষের জীবন আরও দ্রুত হয়েছে, কিন্তু ‘পিকু’ আজও মনে করিয়ে দেয় পারিবারিক সম্পর্কের আসল রূপ। যেখানে রাগ, অভিমান আর দায়িত্বের ভেতরেও লুকিয়ে থাকে নিঃশর্ত ভালোবাসা।

এক দশক পেরিয়েও তাই ‘পিকু’ শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং অনেক দর্শকের কাছে এক আবেগের নাম হয়ে রয়ে গেছে।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন