© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মার্কিন নাগরিকের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত

শেয়ার করুন:
মার্কিন নাগরিকের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৫১ পিএম | ১১ মে, ২০২৬
হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরি থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা ১৭ জন আমেরিকানের মধ্যে একজনের শরীরে ভাইরাসের অ্যান্ডিস স্ট্রেইনের মৃদু উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং দ্বিতীয়জনের শরীরে হালকা উপসর্গ রয়েছে। মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ রবিবার এ কথা জানিয়েছে।

এইচএইচএস আরো জানিয়েছে, সব মার্কিন নাগরিককে আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে এবং উপসর্গযুক্ত দুই যাত্রী বিমানের বায়োকন্টেইনমেন্ট ইউনিটে ভ্রমণ করছেন।

উপসর্গ থাকা দ্বিতীয় যাত্রীর শরীরে ভাইরাসটি থাকার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

হান্টাভাইরাস হলো এক ধরনের ভাইরাস, যা সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। বিরল ক্ষেত্রে এটি মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে।

তবে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম। শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এমভি হন্ডিয়াস জাহাজে না থাকা আটজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

তাদের মধ্যে ছয়জনের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে একজন ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিক মারা গেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জাহাজটিতে ছড়িয়ে পড়া এই রোগের প্রাদুর্ভাবে শনাক্ত হওয়া হান্টাভাইরাসের অ্যান্ডিস স্ট্রেইনটি ফুসফুসের মারাত্মক অসুস্থতার কারণ হতে পারে। এটি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এইচএইচএস জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আকাশপথে যাত্রীদের নেব্রাস্কার ওমাহায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা মেডিক্যাল সেন্টারের এএসপিআর রিজিওনাল এমার্জিং স্পেশাল প্যাথোজেন ট্রিটমেন্ট সেন্টারে (আরইএসপিটিসি) নিয়ে যাওয়া হবে এবং মৃদু উপসর্গযুক্ত যাত্রীকে দ্বিতীয় একটি আরইএসপিটিসিতে নিয়ে যাওয়া হবে।

এইচএইচএস জানিয়েছে, কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানোর পর প্রত্যেক ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হবে এবং তাদের অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, স্পেন ও ফ্রান্স ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফ দ্বীপের কাছে নোঙর করা এমভি হন্ডিয়াস জাহাজ থেকে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিয়েছে। একইভাবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডও জাহাজে থাকা তাদের নাগরিকদের বিশেষ বিমানে দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে।

এদিকে সোমবার অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ডাচ পতাকাবাহী বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ থেকে নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে তারা একটি চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করবে।

দেশে ফেরার পর তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।

পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াট বলেন, চারজন অস্ট্রেলিয়ান, একজন টেনেরিফের বাসিন্দা এবং একজন নিউজিল্যান্ডের বাসিন্দাকে এই ফ্লাইটে দেশে আনা হবে। তিনি বলেন, সরকার এই ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে এবং তারা দ্রুতই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাবে। তিনি আরো জানান, রাজ্য ও অঞ্চলগুলোর সঙ্গে কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

তবে ফিরিয়ে আনা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ অসুস্থ কি না বা কোনো উপসর্গ আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

নিউজিল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনে কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য তাদের স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন