স্ত্রী ভারতী সিং-এর সাফল্য নিয়ে মুখ খুললেন হর্ষ
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৩ পিএম | ১৫ মে, ২০২৬
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী ভারতী সিং। দীর্ঘদিন ধরেই ছোটপর্দায় নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। জনপ্রিয়তা, সাফল্য এবং আয় সব দিক থেকেই বহু বছর ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভারতী। আর সেই কারণেই বিয়ের পর থেকে প্রায়ই তুলনা টানা হয়েছে তাঁর স্বামী হর্ষ লিম্বাচিয়া-র সঙ্গে। স্ত্রী বেশি সফল হলে পুরুষদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় কি না, সেই প্রশ্ন নিয়েই এবার খোলামেলা কথা বললেন হর্ষ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, সমাজে এখনও এই মানসিকতা পুরোপুরি বদলায়নি। পুরুষ বেশি সফল হলে তা স্বাভাবিক বলে ধরা হয়, কিন্তু স্ত্রী বেশি জনপ্রিয় বা সফল হলেই নানা ধরনের অস্বস্তি শুরু হয়। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তাঁকেও হতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন হর্ষ।

ভারতীর সঙ্গে পরিচয়ের সময় তিনি ছিলেন এক উঠতি চিত্রনাট্যকার। জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘কমেডি সার্কাস’-এ ভারতীর জন্য লেখালিখি করতেন তিনি। প্রথম দিকে সেই লেখা তেমন সাড়া না পেলেও পরে ভারতীর পারফরম্যান্স বিপুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কাজের সূত্রেই ধীরে ধীরে কাছাকাছি আসেন দু’জনে। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, তারপর দীর্ঘ ছয় বছরের সম্পর্কের পর ২০১৭ সালে বিয়ে করেন তাঁরা।
তবে বিয়ের সময় ভারতীর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। সেই তুলনায় হর্ষ তখনও নিজের জায়গা তৈরি করার লড়াইয়ে ব্যস্ত। আর সেই সময়টাতেই কিছুটা অস্বস্তি কাজ করত বলে জানিয়েছেন তিনি।
হর্ষের কথায়, স্ত্রী বেশি সফল হলে সমাজের চোখে পুরুষকে আলাদা এক চাপের মুখে পড়তে হয়। সেই অনুভূতি তাঁর মধ্যেও ছিল। তবে তিনি সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নিজেকে আরও বেশি কাজের মধ্যে ডুবিয়ে দেন।
চিত্রনাট্যকার হিসেবে নিজের কাজকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করেন তিনি। পরে প্রযোজনার জগতেও পা রাখেন। কারণ তাঁর মনে হয়েছিল, নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে গেলে নতুন দায়িত্ব নিতে হবে। এরপর সৃজনশীল পরিচালক হিসেবেও কাজ শুরু করেন হর্ষ।
জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘কমেডি নাইটস বাঁচাও’ তৈরির পর থেকেই আত্মবিশ্বাস বাড়তে শুরু করে তাঁর। তখনই মনে হয়েছিল, তিনিও আলাদা করে কিছু করতে সক্ষম।
আজ আয় বা জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে সুখেই রয়েছেন হর্ষ ও ভারতী। দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁদের সংসারও এখন ভরপুর ব্যস্ততায়।
তবে এই সাক্ষাৎকারে হর্ষের সবচেয়ে বড় বার্তা, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে তুলনার চেয়ে বেশি জরুরি পারস্পরিক সম্মান এবং নিজের জায়গা তৈরি করার আত্মবিশ্বাস।
পিআর/টিকে