জীবনের ভার কিভাবে বয়ে বেড়াব জানি না: কারিনার মা
ছবি: সংগৃহীত
০১:৪১ পিএম | ১৭ মে, ২০২৬
উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মারা যান তিনি।
আজ রবিবার মেয়ের মরদেহ নিয়ে ঢাকায় ফিরছেন তাঁর মা লোপা কায়সার।
কারিনার মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, সহকর্মী ও ভক্তদের মাঝে। সোমবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত চেন্নাইয়ে মেয়ের সঙ্গেই ছিলেন লোপা কায়সার ও কারিনার ছোট দুই ভাই।
প্রিয় কন্যাকে হারানোর বেদনায় আজ দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন একটি পোস্ট করেন তিনি।
সেখানে লোপা কায়সার লেখেন, ‘জীবনের অনেক বড় বড় পরীক্ষা হাসিমুখে পার করেছি। কখনো কারও কাছে কিছু চাইনি, কারও অপকার করিনি।
সব সময় চেষ্টা করেছি মানুষের উপকার করতে। আজ আমার মেয়েকে ছাড়া জীবনের ভার আমি কীভাবে বয়ে বেড়াব, জানি না।’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস মাঠে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ এশা বনানী দরবার শরিফে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন রাত ১০টায় তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। পরদিন সোমবার বাদ ফজর মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাহপুরে দাফন করা হবে তাঁকে।
জানা গেছে, কয়েক দিন ধরেই লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ ছিলেন কারিনা।
প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চলছিল তাঁর চিকিৎসা।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করা হয়। পরবর্তীতে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন কারিনা কায়সার। কনটেন্ট নির্মাণের পাশাপাশি অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজেও নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন তিনি। নাটক ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন এই তরুণ নির্মাতা-অভিনয়শিল্পী। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
পিআর/টিকে