যাওয়ার পর মনে হয়েছিল কলকাতার আমাকে প্রয়োজনই নেই : লিটন
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫১ পিএম | ১৭ মে, ২০২৬
একদিকে এনওসি নিয়ে দোটানা, অন্যদিকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের অবহেলা। এই দুই কারণেই ২০২৩ সালে হুট করে আইপিএল ছেড়ে চলে এসেছিলেন লিটন দাস। সেই ঘটনার ৩ বছর পর অবশেষে লিটন মুখ খুলেছেন। জানিয়েছেন কেন ক্রিকেটারদের ভিনদেশি লিগে খেলার পূর্ণ এনওসি দেওয়া উচিৎ বোর্ডের- সে ব্যাপারেও।
আলোচনা শুরু হয়েছিল বিগত বোর্ডের ক্রিকেটারদের এনওসি দেওয়ার বিষয়ে। বিসিবির চার-ছক্কা পডকাস্টে লিটন বলেন, ‘আমি ভুক্তভোগী, তাই আমি জানি। আইপিএলের মতো ইভেন্টে বাংলাদেশিরা খুব রেয়ার। দুজন খেলত- সাকিব আল হাসান আর মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর সুযোগ পাওয়া খুব কঠিন ছিল। সে জায়গা থেকে আমি সুযোগ পেয়েছিলাম। বোর্ডকে অনেক অনুরোধও করেছিলাম অন্তত আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট না খেলা যায় কিনা।‘
তবে লিটনকে বোর্ড জানায়, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলতেই হবে। পূর্ণ এনওসি না পাওয়ায় কলকাতাও তাকে আলাদা নজরে দেখা শুরু করে। এ কারণেই আইপিএল যাত্রা দীর্ঘায়িত হয়নি এই উইকেত্তক্ষক ব্যাটারের।
তিনি বলেন, ‘আইপিএলের মতো ইভেন্টে যখন পুরো আসরের জন্য যাবেন, অনেক কিছু শেখার আছে সাথে আবার পুরো বাংলাদেশের হয়ে ওখানে যাচ্ছেন। আপনার চাহিদা ও ডেডিকেশন অনেক ওপরে চলে যাবে। এরপর দেশের হয়ে খেলবেন যখন তা সহজ মনে হবে। সাকিব-মুস্তাফিজ তো এমনি এমনি সাকিব-মুস্তাফিজ হয়নি। তারা বড় পর্যায়ে খেলেছে বলেই জাতীয় দলে তাদের ইমপ্যাক্ট অন্যরকম। যদি এই সুযোগগুলো বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা পায়, যেকোনো লিগেই- তাদের খেলতে দেওয়া উচিৎ। সেই খেলোয়াড়েরও বোঝা উচিৎ- আমার আল্টিমেট গোল জাতীয় দল সার্ভ করা, ওখানে গিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করা।‘

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন ছিল যে, আইপিএলে খেলার জন্য সেভাবে প্রস্তুতই হতে পারেননি লিটন। জানালেন, ‘আমার মনে হয় আমি কলকাতার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। একে তো মাইন্ডসেটই ছিল না, কারণ টেস্টের জন্য আমাকে আটকে দিয়েছে। অনেক কিছুই বলতে চাইতাম কিন্তু বলার মতো সাহস ছিল না আমাদের। বাংলাদেশ জেতার জন্য এত মরিয়া, জিততেই হবে আপনাকে। কিন্তু খেলোয়াড় গ্রো আপ করার কোনো ইচ্ছাই ছিল না। বা কাউকে ঐ সুযোগ দেওয়ার ইচ্ছাই ছিল না।‘
লিটন আরও বলেন, ‘যখন আইপিএলে কল পেলাম, আমি স্বাভাবিকভাবেই অনেক খুশি, বড় ইভেন্টে যাব। অনেক শেখার সুযোগ ছিল। আর এমন এক দলে ছিলাম, মনে হচ্ছিল আমার খেলার সুযোগ আছে। যখন গেলাম, তখন আর অপশনই ছিল না। আমি যাওয়ার পর মনে হয়েছে দলে আমাকে খুব একটা প্রয়োজন নেই। টিমও আমাকে খুব একটা ওরকম সাপোর্ট দেয়নি।‘
লিটনকে হুট করে আগের রাতে জানানো হয়, পরের ম্যাচে খেলছেন তিনি। আবার দিনটি ছিল না তার পক্ষে। সেই ম্যাচ খারাপ যাওয়ার পর বুঝতে পারলেন, আর তাকে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তার ভাষায়, ‘কেন বললাম প্রিপেয়ার্ড ছিলাম না? ম্যাচের আগে তো একটা মানুষকে বলা হয় তুমি কাল খেলবে, বা এমন কিছু। দুই ম্যাচ ধরে বসে ছিলাম, আমার সাথে ওরকম কোনো আলোচনাই হয়নি। হঠাৎ করে রাত ১১টায় ম্যাসেজ এলো, তুমি খেলবে। আমার যেটুকু এনার্জি ছিল চেষ্টা করেছি। ক্রিকেটে অনেক সময় দিন যায়, অনেক সময় যায় না। আমার কাছে ঐ দিনটা ছিল না।‘
আইকে/টিএ