© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দেব ব্যতিক্রম, টলিউডের ‘ব্যান’ সংস্কৃতির মধ্যেও আমাদের নিয়ে কাজ করেছে: রূপা গঙ্গোপাধ্যায়

শেয়ার করুন:
দেব ব্যতিক্রম, টলিউডের ‘ব্যান’ সংস্কৃতির মধ্যেও আমাদের নিয়ে কাজ করেছে: রূপা গঙ্গোপাধ্যায়

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:২৪ পিএম | ১৮ মে, ২০২৬
দীর্ঘ এক দশক পর আবারও নন্দন চত্বরে দেখা গেল অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে। একসময় যে জায়গা ছিল তাঁর নিয়মিত যাতায়াতের কেন্দ্র, সেই পুরোনো স্মৃতির উঠোনে ফিরে যেন খানিক আবেগপ্রবণই হয়ে পড়লেন তিনি। কনফারেন্স রুমের একটি চেয়ার দেখিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন, এই জায়গাতেই বসে হত শিল্পী সংগঠনের বৈঠক, চলচ্চিত্র উৎসবের নানা পরিকল্পনা। সময় বদলেছে, রাজনীতির পালাবদল হয়েছে, আর সেই পরিবর্তনের আবহেই আবারও পুরোনো জায়গায় ফেরা রূপার।

সমর্পণ সেনগুপ্ত পরিচালিত ‘প্রত্যাবর্তন’ ছবির মাধ্যমে ফের অভিনয়ের জগতে দেখা গেল তাঁকে। তবে শুধু সিনেমা নয়, বর্তমানে টলিউডের নানা সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়েও আলোচনায় রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বাংলা বিনোদন জগতের একাধিক দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁদের জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও পাপিয়া অধিকারী।

তবে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগেই রূপার কণ্ঠে উঠে এল বদলের বার্তা। তাঁর দাবি, টলিউডে আর ‘ব্যান’ সংস্কৃতি থাকবে না। শিল্পীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন, কারও গায়ে রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে কাজ বন্ধ করার দিন শেষ হওয়া উচিত। দীর্ঘদিন নিজেও এই ‘ব্যান’ সংস্কৃতির শিকার ছিলেন বলে অকপটে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী।



এই প্রসঙ্গেই উঠে আসে অভিনেতা দেবের নাম। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও দেবের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রূপা। তাঁর কথায়, টলিউডের অনেকেই যখন দূরত্ব বজায় রেখেছেন, তখন দেব ব্যতিক্রম ছিলেন। নিজের ছবিতে মিঠুন চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, অঞ্জনা বসু কিংবা রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের কাজের সুযোগ দিয়েছেন তিনি। এর ফলে দেবের কিছু ছবি নন্দনে জায়গা না পেলেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি অভিনেতা।

রূপার ভাষায়, দেব কখনও বাছবিচার করেননি। তিনি যতটা সম্ভব, শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। অভিনেত্রীর কথায় স্পষ্ট, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকেও দেবকে তিনি নিজের ছোট ভাইয়ের মতোই মনে করেন।

তবে আপাতত অভিনয়ের চেয়ে রাজনীতিতেই বেশি মন দিতে চান রূপা। তাই খুব শিগগিরই তাঁকে পর্দায় দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে নাট্যজগতের স্বাধীনতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। নতুন সরকার নাট্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ার ঘোষণা দিলেও অনেকের মনেই রয়েছে শঙ্কা। সেই ভয় দূর করার বার্তাও দিয়েছেন রূপা। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের আতঙ্ক মানুষের মনে গেঁথে গেছে। তাই শিল্পী ও সাধারণ মানুষকে নতুনভাবে আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সংবর্ধনা, ফুলের তোড়া কিংবা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার প্রতিও খুব একটা আগ্রহ নেই রূপার। তাঁর মতে, কথার চেয়ে কাজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কাজ দিয়েই ভবিষ্যতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে চান অভিনেত্রী।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন