© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

'আমাকে থামাতে চাইলে মেরে ফেলতে হবে', প্রতিপক্ষদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মমতা

শেয়ার করুন:
'আমাকে থামাতে চাইলে মেরে ফেলতে হবে', প্রতিপক্ষদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মমতা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩০ পিএম | ০৪ জুলাই, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর একের পর এক ধাক্কা আসছে। তবে এত কিছুর পরেও দমে যাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; বরং নিজের অবস্থানে এখনো অনড় তিনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মমতা বলেছেন, তাকে থামাতে হলে ‘খুন’ করতে হবে।

দলীয় বিদ্রোহীদের স্পষ্ট ভাষায় ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মমতা। তবে নিজের চিরচেনা মেজাজেই তিনি ঘোষণা করেছেন, তৃণমূলের দলীয় প্রতীক তার অনুগত শিবিরের কাছেই থাকবে। মমতার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিদ্রোহীরা যদি ঘাসফুল প্রতীক নিজেদের করে নিতে চান তাহলে হয়তো সামনে তাদের একটি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, ‘দলের প্রতীক কোথাও যাচ্ছে না। আমাকে যদি থামাতে চান, তবে আমাকে মেরে ফেলতে হবে।’

এর আগে শনিবার (৪ জুলাই) তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী আরও একটি বড় ধাক্কা খেয়েছেন। দলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেছেন। চন্দ্রিমা ছিলেন মমতার অনুগত হাতেগোনা কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মধ্যে অন্যতম। পদত্যাগের পর এই বিধায়কও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন উপদলে যোগ দিয়েছেন। এই ঋতব্রতের সমর্থকেরাই গত শুক্রবার কলকাতার তৃণমূল দলীয় কার্যালয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আজ পদত্যাগ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি এবং তিনি যে পদত্যাগ করবেন— তা তিনি আমাকে আগেই জানিয়েছিলেন। কারণ তার ছেলেও আগে তৃণমূল-বিরোধী শিবিরের সাথে হাত মিলিয়েছিল।’

বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে উপদেষ্টার পদের প্রস্তাব দেওয়া হলেও, তা সাফ প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রায় পনেরো বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মমতা। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, কখনই বিদ্রোহীদের সাথে হাত মেলাবেন না।

মমতা বলেন, ‘সেটা (প্রস্তাব দেওয়া) তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, তিনি তা করতেই পারেন। কিন্তু আমি কোনোভাবেই তাদের সাথে যোগ দেব না।’

তিনি দাবি করেন, বিদ্রোহীরা চাপের মুখে পড়েই দল ছেড়ে আলাদা হয়ে গেছে। মমতা আরও যোগ করেন, ‘তবে আমি বিজেপির কাছে মাথা নত করব না, আর আমার দলও কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।’

তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় বিদ্রোহীদের দখলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘যারা গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে গিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমি একটা কথাই বলব— আমরা ওই অফিসটি ভাড়া নিয়েছিলাম। ২০২৭ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত অফিসটি আমাদের নামে লিজ নেয়া আছে। কোনও ব্যক্তি দল ছেড়ে চলে যেতেই পারেন, কিন্তু তাতে দল নামক প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত হয়ে যায় না।এটি দলের সম্পত্তি। আমি চাইলেই এটা নিজের দখলে নিতে পারি না। মা, মাটি, মানুষের সম্পত্তি কেউ এভাবে জোর করে কেড়ে নিতে পারবে না।‘

এ সময় মমতা ঘোষণা করেন, এখন থেকে তার নিজের বাড়ির দলীয় কার্যালয়টিই তৃণমূলের প্রধান অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

এমআই/টিকে

মন্তব্য করুন