মেজাজ হারিয়ে নিজের দলের কর্মীকেই চড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৮ পিএম | ০৮ জুলাই, ২০২৬
ভিড়ের মধ্যে মেজাজ হারিয়ে একের পর এক চড় থাপ্পড় দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার (৮ জুলাই) কলকাতার কালীঘাটে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতার নিজ বাড়ির সামনে এমন ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রোববার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ওই দিনে বারুইপুরে ঘটনাস্থলে যেতে চান মমতা। তবে রোববার সন্ধ্যা থেকেই কালীঘাটের বাসভবনে মমতাকে পুলিশি নজরদারিতে ঘিরে ফেলার অভিযোগ ওঠে।
বুধবার হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে পথে নেমেছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। পথে বিজেপির একটি মিছিল মুখোমুখি হয়। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে হাজরা চত্বরে।
হাইকোর্টের নির্দেশ মতো, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে হাজরার কাছে অন্য একটি মিছিল সেখানে ঢুকে পড়ে। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে কালীঘাট তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীরা। তৃণমূলের অভিযোগ, এই তাণ্ডবের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি। এভাবে মিছিলে ঢুকে পড়ার অর্থ আদালত অবমাননা।
চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে মিছিলে শেষে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেক কর্মী। পরে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান কর্মীরা। ফলে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতার বাড়ির সামনেও পরিস্থিতি তেতে ওঠে। সেই সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজেই ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে নামেন মমতা। দুই হাতে সকলকে সরতে ইঙ্গিত করেন। কিন্তু তারপরও চরম বিশৃঙ্খলা চলছিল। ফোনের ক্যামেরা হাতে নিয়ে অনেকেই সরতে চাননি। ভিড়ের চাপে সেখানেও সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন আরও অনেক কর্মী। তাদের গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তীব্র হয়। এরপরই মেজাজ হারান মমতা।
প্রথমে মাইক হাতে ভিড় সামলাচ্ছিলেন তিনি। ভিড় সরাচ্ছিলেন। সেই সময় কমলা টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তির গালে চড় মারতে দেখা যায় মমতাকে। সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তিও একজন তৃণমূলকর্মী। এরপর আরও বেশ কয়েকজন কর্মীর পিঠেও থাপ্পড় মারতে দেখা যায় মমতাকে। কী কারণে তিনি এভাবে চড়াও হলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, ধারণা করা হচ্ছে, ভিড় সামলাতে গিয়েই এভাবে মেজাজ হারিয়েছেন তিনি।
বুধবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন মমতা। বারুইপুরের ‘দাঙ্গাকারীদের’ প্রতিবাদী বলেও উল্লেখ করেন মমতা। এদিন মমতা বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে এই মিছিল হচ্ছে। কিন্তু, বিজেপির গুন্ডারা আমার বাড়িতে সকালে এসে চিৎকার করে আমাকে ভয় দেখিয়েছে। সকলেই জানি এই সরকার কীভাবে তৈরি হল। ভালো করে সরকারটা চালাও। তা নয়, আমাদের কোথাও যেতে দিচ্ছে না। হাউস অ্যারেস্ট করেছে। নজরদারি চালাচ্ছে। কিন্তু মেয়েদের কোনো সুরক্ষা দিতে পারছে না পুলিশ। ভাড়াটে গুন্ডারা লুম্পেনগিরি করেছে। ছেলে-মেয়ে সকলকে মারা হয়েছে। এই পরিবর্তন কি বাংলার মানুষ চেয়েছিল? তা সত্ত্বেও মিছিল হল। আমাদের হ্যান্ড মাইকের পারমিশন ছিল, সেটা কেড়ে নেয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের চেয়েও পরিস্থিতি খারাপ।’
আরআই/টিকে