এইচএলএইচ-এ প্রাণ হারাল সাবেক ক্রিকেটার, কেন হয় এই রোগ?
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৫ পিএম | ০৯ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের উত্থানের অন্যতম কারিগর ও সাবেক ফাস্ট বোলার শাপুর জাদরান। অত্যন্ত বিরল রোগ ‘হিমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ (এইচএলএইচ)-এ আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই প্রাণ হারালেন এ বাঁহাতি পেসার। ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই জটিল এ ইমিউন ডিজিজের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। তার এই আকস্মিক মৃত্যু এইচএলএইচ নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শাপুর জাদরান ‘হিমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ নামক এক অত্যন্ত বিরল এবং একই সঙ্গে প্রাণঘাতী ইমিউন ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ছিলেন। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। জীবাণু বা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার বদলে এই অস্বাভাবিক ইমিউন সিস্টেম ভুলবশত শরীরের নিজস্ব সুস্থ টিস্যু, কোষ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করতে শুরু করে।

এ বিষয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এইচএলএইচে আক্রান্ত হওয়ার মূলত দুটি কারণ থাকতে পারে।
১. প্রাইমারি এইচএলএইচ
এটি সাধারণত বংশগত বা জন্মগত ত্রুটির কারণে হয়।
২. সেকেন্ডারি এইচএলএইচ
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কোনো গুরুতর সংক্রমণ, অটোইমিউন ডিজিজ বা ক্যানসারের আক্রমণের কারণে এ রোগ হতে পারে।
এই রোগে শরীর অতিরিক্ত পরিমাণে প্রদাহ সৃষ্টিকারী সেল বা কেমিক্যাল তৈরি করে। এর ফলে লিভার, প্লিহা, অস্থিমজ্জা এবং মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, এইচএলএইচের লক্ষণ কী—
১. ঘন ঘন জ্বর আসতে পারে। তাপমাত্রা কিছুতেই নামতে চায় না।
২. লিভার অতিরিক্ত ফুলে যায়।
৩. লিম্ফ নোড বা লসিকা গ্রন্থিও ফুলে থাকে।
৪. ত্বকে র্যাশের মতো দানা বেরোয়।
৫. রক্তে লোহিত ও শ্বেত কণিকার পরিমাণ কমে যায়।
৬. কোনো কারণ ছাড়াই শরীরে কালশিটে পড়ে বা রক্তপাতও হয়।
৭. খিঁচুনি, বিভ্রান্তি বা মস্তিষ্কের নানাবিধ স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ রোগ নির্ণয়ের জন্য বিশেষ রক্তের পরীক্ষা এবং বোন ম্যারো পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে ইমিউন সিস্টেমের এই অতিসক্রিয়তা অঙ্গ বিকল করে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
উল্লেখ্য, শাপুর জাদরান ছিলেন আফগানিস্তানের বাঁহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার, যিনি ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে দলের প্রথম জয়ে স্মরণীয় অবদান রেখেছিলেন।
এফআর/এসএন