কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সুইস শিবিরে বড় ধাক্কা, স্বস্তিতে আর্জেন্টিনা
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫০ এএম | ১১ জুলাই, ২০২৬
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বড় ধাক্কা নিয়েই মাঠে নামতে হচ্ছে সুইজারল্যান্ডকে। হাঁটুর চোট কাটিয়ে ফিরতে না পারায় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা জোহান ম্যানজাম্বিকে পাচ্ছেন না কোচ মুরাত ইয়াকিন। তবে অধিনায়ক গ্রানিত জাকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের সব মনোযোগই আর্জেন্টিনাকে হারানোর দিকে, লিওনেল মেসিকে ঘিরে নয়।
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে সুইসরা। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দলের কোচ মুরাত ইয়াকিন নিশ্চিত করেন, শেষ পর্যন্ত ম্যানজাম্বিকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেয়া হচ্ছে না।
চলতি বিশ্বকাপে তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করা ম্যানজাম্বি শেষ ষোলোতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়ের ম্যাচেও হাঁটুর চোটের কারণে খেলতে পারেননি। সেই চোট থেকে সেরে উঠতে না পারায় এবারও মাঠে নামা হচ্ছে না তার।
ইয়াকিন বলেন, ‘আমরা তাকে ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সবকিছুই করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে আগামীকালের ম্যাচে খেলতে পারবে না।’

কোচ আরও যোগ করেন, ‘জোহান এখনও অনেক ব্যথা অনুভব করছে। বিষয়টি আমাদের সবার জন্যই বড় ধাক্কা। সে যখন মাঠে থাকে, তখন তার আত্মবিশ্বাস ও খেলার আনন্দ পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করে।’
ম্যাচের আগে জার্মানির সাবেক গোলরক্ষক ইয়েন্স লেহমান মন্তব্য করেছিলেন, সুইস ফুটবলাররা নাকি লিওনেল মেসিকে অতিরিক্ত সম্মান দেখাচ্ছেন এবং ম্যাচ শেষে তার জার্সি পাওয়াতেই বেশি আগ্রহী।
তবে এমন মন্তব্য উড়িয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাদের সম্পর্কে কী বলছে, তা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমরা শুধু মাঠে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারি। এর বাইরে আর কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
মেসিকে কীভাবে থামানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটিও ব্যাখ্যা করেন ইয়াকিন। তিনি বলেন, ‘বল যদি আমাদের দখলে থাকে, তাহলে মেসিও ততটা প্রভাব ফেলতে পারবে না। আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাই এবং তাকে বল নিয়ে খেলার সুযোগ কম দিতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেসিকে থামানোর অনেক উপায় আছে। আমরা সবচেয়ে কার্যকর সমাধানটাই খুঁজছি। কাল মাঠে আমরা একটি ইউনিট হিসেবে খেলব। ভালো পাস খেলব, উঁচুতে প্রেস করব এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাব।’
১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সুইজারল্যান্ড। তাই এই ম্যাচকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত বলেই মনে করছেন ৩৩ বছর বয়সী জাকা। সুইস অধিনায়ক বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। ৭২ বছর পর সুইজারল্যান্ডকে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারা এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়া আমাকে ভীষণ গর্বিত করে।’
তবে শুধুই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠায় সন্তুষ্ট নন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে শুধু কথা বলতে আসিনি। আমরা আরও এক ধাপ এগোতে চাই। লক্ষ্যপূরণের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। আমার ভেতরে তীব্র ক্ষুধা আছে, সেই ক্ষুধার প্রমাণ এখন মাঠেই দিতে হবে।’
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল সুইজারল্যান্ড। সেই ম্যাচেও খেলেছিলেন জাকা। তবে এবারের লড়াইকে প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন না তিনি। তার ভাষ্যমতে, ‘এটি প্রতিশোধের ম্যাচ নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ম্যাচ। আমরা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে, আর আমাদের লক্ষ্য একটাই—জয়।’
সমর্থকদের উদ্দেশে জাকা বলেন, ‘স্বপ্ন দেখে যান। আমি সবসময় স্বপ্ন দেখি, আর স্বপ্ন সত্যিও হতে পারে। তবে স্বপ্ন পূরণ করতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, ঘাম ঝরাতে হবে, নিজের সীমা ছাড়িয়ে যেতে হবে। আর্জেন্টিনাকে হারাতে চাইলে সেটাই করতে হবে।’
এমআর/টিএ