ইমামের গোপন তথ্য ফাঁস
ছবি: সংগৃহীত
১০:০৬ এএম | ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইমাম-উল-হকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। চোট নিয়ে নাটক করার অভিযোগের পর এবার ড্রেসিংরুমের গোপন তথ্য ফাঁস ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগও উঠেছে পাকিস্তানের বাঁহাতি এই ব্যাটারের বিরুদ্ধে। সব অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন তিনি। এমনকি নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তদন্ত শেষে খুব শিগগিরই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে চোটের অজুহাত দেখানোর অভিযোগে প্রথমবার আলোচনায় আসেন ইমাম। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাঁ পায়ের মাংসপেশিতে চোট পাওয়ার কথা জানিয়ে কোনো ইনিংসেই ব্যাট করতে নামেননি তিনি। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। এরপর ইমামের চোটের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
চোটের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইমামের বিরুদ্ধে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়েছিল বলেও পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে পরে কোচ, নির্বাচক ও অধিনায়কদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ইমামের ওপর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন বলে জানা যায়।
তবে চোটের অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই নতুন করে ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁস ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে ইমামের বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
এদিকে ইমাম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়েও তদন্ত চলছে। জিও নিউজের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি তাদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করছে।
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে দুজনের আর্থিক লেনদেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে ও পরে তাদের আর্থিক কর্মকাণ্ড এবং ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো সন্দেহজনক লেনদেনের সন্ধান মিললে অর্থের উৎস ও গন্তব্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
সব মিলিয়ে মাঠের বাইরে নানা অভিযোগে চাপে রয়েছেন ইমাম। তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাঠেও অবশ্য ভালো সময় যাচ্ছে না পাকিস্তানের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হয়েছে তারা। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারের পর লর্ডসে ১৯৪ রান এবং এজবাস্টনে ৮ উইকেটে হারে পাকিস্তান।
এই ধবলধোলাইয়ের পর টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানের অবস্থান নেমে গেছে নবমে। ৭১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসে এটিই দলটির সবচেয়ে নিচের অবস্থান।
এফআর/এসএন