জ্বালানি তেলের দাম না কমালে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের
ছবি: সংগৃহীত
১০:০৯ পিএম | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্রুত সমাধান না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেছেন, অস্বাভাবিক হারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিফলন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ‘ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে’ বিক্ষোভ মিছিলের পূর্ববর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, সরকার ৭ মাসের ব্যবধানে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। দাম বৃদ্ধির কারণে তেলের সাথে সম্পর্কিত অসাধু চক্র জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের চড়া দামসহ জীবনযাপনের সকলস্তরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সংবিধান সংশোধন কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ নেবে না ইসলামী আন্দোলন
তিনি বলেন, অস্বাভাবিক হারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিফলন।
বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, বিভিন্ন দেশের যুদ্ধ চলমান থাকা সত্ত্বেও গত এক সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট দেখা যায় গতকাল এবং আজকে তেলের দাম সর্বনিম্ন। তারপরও কাদেরকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের বোধগম্য হয়না। জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক না থাকলেই এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।
তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি ঠুনকো অজুহাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি; এ যেন সরকারের জনবিচ্ছিন্নতার জ্বলন্ত প্রমাণ। দ্রুত সমাধান না করলে কঠোর আন্দোলনে নামবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
নগর সভাপতি আরও বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ড সরকারের আইনশৃঙ্খলার অসহায় নিয়ন্ত্রণ বোঝা যায়। শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন না হলে এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
নগর সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, সরকার ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান যুদ্ধ ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে দায় এড়াতে চায় বলে মনে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পূর্বের সরকারের ওপরে দায় দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অথচ তাদের সময় জ্বালানির দাম এবং সমস্যা এত প্রকট ছিল না।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সাংবাদিকদের সামনে এসে উদ্ভট কথা বলে সংকটে স্ফুলিঙ্গের কাজ করে দিচ্ছে। জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার পরিণতি পতিত ফ্যাসিবাদ থেকে দেখে নিন। স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল হতে বেশি সময় লাগবে না।
নগর দপ্তর সম্পাদক মাওলানা নাজিমুদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আইএবির সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ূম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের জয়েন্ট সেক্রেটারি ফয়জুল ইসলাম, নগর সহসভাপতি আলহাজ এম এইচ মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম খোকন, মাওলানা নিজামুদ্দিন প্রমুখ।
আরআই/টিএ