৩ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে আয়াস, জজের সামনেই আইনজীবীদের হাতাহাতি
০৭:৩৩ পিএম | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
তিন দিনের রিমান্ড মেয়াদ শেষে আ ন ম আয়াসকে আদালতে হাজির করাকে কেন্দ্র করে এক থমথমে ও চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।শুনানি চলাকালে আদালতের ভেতরে এজলাসে বিচারকের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি ও চরম হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এ সময় আ ন ম আয়াসের আত্মপক্ষ সমর্থনকারী আইনজীবীকে প্রতিপক্ষ আইনজীবীরা শারীরিকভাবে হেনস্থা ও লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার নির্ধারিত রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি আ ন ম আয়াসকে কড়া পুলিশি পাহারায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করেন। পুলিশ তাকে এজলাসে নিয়ে আসার পরপরই আদালত কক্ষে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। তবে আদালত কক্ষের ভেতরে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া বিপুল সংখ্যক আইনজীবী আয়াসের বিপক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের ফুটপাতের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুন-কালি লেপন ও বিকৃতির চেষ্টার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত ১০ অক্টোবর (শনিবার) আ ন ম আয়াসকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। পরবর্তীতে মামলার মূল উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালতে তোলা হলে বিচারক তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ড মেয়াদ শেষেই আজ কড়া পুলিশি পাহারায় তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানি শুরু হওয়ার পরপরই আয়াসের জামিন আবেদন নিয়ে কথা বলতে দাঁড়ান তার নিয়োজিত আইনজীবী। ঠিক সেই মুহূর্তে অপরপক্ষের আইনজীবীরা একযোগে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং তাকে কথা বলতে বাধা দেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। জজের সামনেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং আয়াসের আইনজীবীকে টানা-হেঁচড়া করে এজলাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয় বলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
হেনস্থার শিকার হওয়া আইনজীবী পরবর্তীতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একজন আসামির আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার সংবিধানে স্বীকৃত।আজ বিচারকের চোখের সামনে যেভাবে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হলো এবং কথা বলতে বাধা দেওয়া হলো, তা স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও ওকালতি পেশার জন্য চরম কলঙ্কজনক। আমরা আদালতে বিচার চাইতে এসেছি, কিন্তু বিচারকের সামনেই মল্লযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল!"
আসামিপক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, আয়াসের রিমান্ড চলাকালীন তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আদালতে তাকে সঠিকভাবে আইনি সহায়তা দিতে বাধা দেওয়ার জন্যই এই পরিকল্পিত হট্টগোল ঘটানো হয়েছে। অন্যদিকে, অপরপক্ষের আইনজীবীদের দাবি—সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ থেকেই আদালত কক্ষে কিছু বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তবে কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আক্রমণ করা হয়নি।
সংঘর্ষ ও হট্টগোলের পর অতিরিক্ত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। আদালত উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক আংশিক শুনে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আ ন ম আয়াসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এমআর/টিএ