মৃত্যুর পর জৈব সার হতে চান হলিউড অভিনেত্রী কিম
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৩৬ পিএম | ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
মৃত্যুর পর কেউ চান দাহ হতে, কেউ বেছে নেন সমাহিত হওয়ার পথ। তবে হলিউডের স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী কিম নোভাকের ইচ্ছা একেবারেই আলাদা। মৃত্যুর পর নিজের দেহকে জৈব সারে পরিণত করতে চান ৯৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।
সেই সার দিয়ে গাছ লাগানো হবে, আর গাছ বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে তিনিও যেন বেঁচে থাকবেন এমনটাই তার প্রত্যাশা।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যতিক্রমী এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন কিম নোভাক। তিনি জানান, কয়েক বছর আগেই মৃত্যুর পর দেহ জৈব সারে পরিণত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তার কাছে এটি কেবল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিকল্প কোনো পদ্ধতি নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গিয়ে নতুনভাবে বেঁচে থাকার একটি উপায়।
কিমের ভাষায়, মৃত্যুর পর গাছের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার ভাবনাটি তার কাছে রোমাঞ্চকর এক অভিযানের মতো। তিনি বলেন, ‘আমি চলে যাওয়ার পরও গাছের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকতে পারব। বিষয়টি আমার কাছে রোমাঞ্চকর এক অভিযানের মতো। মৃত্যুর পর আমি এটাই চাই। আমি বেঁচে থাকতে চাই।’নিজের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত উপলব্ধির কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তার মতে, জীবনে ধৈর্যের অভাব ছিল তার। অন্যদিকে, গাছ ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে, সময়ের সঙ্গে নিজের অস্তিত্ব ছড়িয়ে দেয়।

মৃত্যুর পর গাছের মধ্য দিয়ে নিজের জীবন নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ দেখছেন তিনি।কিম বলেন, ‘ধৈর্যের অভাবে ভুগতাম। এদিকে গাছের ধৈর্য আছে। তাই নিজেকে উপলব্ধি করার এটাই সুযোগ। গাছের মধ্য দিয়ে আমি নিজেকে প্রকাশ করে যেতে পারব, জীবনের নানা রূপেরও সাক্ষী হতে পারব।’এই ভাবনা তাকে প্রশান্তি দেয় বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তার কাছে দেহকে প্রকৃতির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার ধারণা সুন্দর ও অর্থবহ। তিনি মনে করেন, জৈব সার গাছপালার বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। তাই মৃত্যুর পরও প্রকৃতির জীবনচক্রের অংশ হয়ে থাকতে চান তিনি।
নিজের এই ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ‘আর্থ ফিউনারেল’ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবস্থা করেছেন কিম। মৃত্যুর পর তার দেহ বিশেষ প্রক্রিয়ায় জৈব সারে পরিণত করা হবে। এ বিষয়ে পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদেরও জানিয়ে রেখেছেন তিনি।অভিনেত্রী তার পরিচিতদের প্রত্যেককে একটি করে গাছ বা ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ লাগানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে গাছ লাগানোই তার বেশি পছন্দ। কারণ, তার কাছে জীবনের মূল বিষয় হলো বেড়ে চলা। মৃত্যুর পরও সেই বেড়ে ওঠা থেমে না থাকার ভাবনাই তাকে আনন্দ দেয়।
কিম নোভাকের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে জীবনের ধারাবাহিকতা নিয়ে তার নিজস্ব দর্শন। তিনি চান, মৃত্যুর পরও তার অস্তিত্ব প্রকৃতির মধ্যে কোনো না কোনোভাবে টিকে থাকুক।উল্লেখ্য, ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বক্স অফিসের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা ছিলেন কিম নোভাক। ১৯৬৬ সালে হলিউডের রুপালি পর্দা থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবন ও ছবি আঁকায় মনোযোগী হন তিনি। চলচ্চিত্রের বাইরেও নিজের পরিচয় তুলে ধরতে চেয়েছেন এই অভিনেত্রী। এবার মৃত্যুর পর জৈব সার হয়ে গাছের বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে সেই পরিচয়কে আরও দীর্ঘায়িত করার ইচ্ছার কথা জানালেন তিনি।
এসএ/টিএ