© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই তাতে পড়তে হয়: পুতিন

শেয়ার করুন:
অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই তাতে পড়তে হয়: পুতিন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:০৯ এএম | ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
রাশিয়ার জ্বালানি বর্জন করে ইউরোপ নিজেদের শিল্প ও সামাজিক ব্যবস্থার ক্ষতি করছে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মস্কোয় গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের (জিইসিএফ) অষ্টম সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পুতিন বলেন, বৈশ্বিক গ্যাসবাজার থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টার গুরুতর পরিণতি রয়েছে। এর ফলে বিদেশি ভোক্তাদের, বিশেষ করে কোম্পানি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারগুলোর গ্যাসের ব্যয় অত্যধিক বেড়ে যায়।

ইউরোপের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রুশ জ্বালানি বর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ভেঙে ইউরোপ নিজেই তার শিল্প ও সামাজিক ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানছে। পরিস্থিতি বোঝাতে একটি রুশ প্রবাদও উল্লেখ করেন তিনি, ‘অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই তাতে পড়তে হয়’।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি, প্রচলিত সরবরাহ ও পরিবহনপথ ব্যাহত হওয়া এবং ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহকারী পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনাকে বৈশ্বিক গ্যাসশিল্পের অনিশ্চয়তার কারণ হিসেবে তুলে ধরেন পুতিন। পাইপলাইনগুলোতে বিস্ফোরণকে তিনি সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করেন। এ ছাড়া বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি কেনার ক্ষেত্রে কয়েকটি দেশের বাধা সৃষ্টির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়েছে। তবে আগের পর্যায়েও একইভাবে দাম কমে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত, পিছিয়ে দেওয়া কিংবা বাতিল করা হচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে বাজারে ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

পুতিনের মতে, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নই বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা। বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ কমে গেলেও চাহিদা রয়ে গেছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিইসিএফের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবহনপথ আরও কার্যকর করার প্রস্তাব দেন তিনি। পুতিন বলেন, বিশ্বে মোট গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় অর্ধেকই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মাধ্যমে হয়। আন্তর্জাতিক পাইপলাইনের ওপর নির্ভরশীল না হওয়ায় এ খাতে সরবরাহের বিকল্প পথ তৈরির সুযোগ রয়েছে।

তেলের বাজারে ভারসাম্য রক্ষায় ওপেক প্লাসের ভূমিকার উদাহরণ তুলে ধরে পুতিন বলেন, গ্যাসশিল্পের জন্যও নিজস্ব কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গ্যাসবাজারের সংকট মোকাবিলায় ফোরামের মধ্যে আলোচনা বাড়ানোর প্রস্তাব দিচ্ছে রাশিয়া। এর মাধ্যমে গ্যাস অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি আগেভাগে মূল্যায়ন এবং সরবরাহের বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

নতুন গ্যাসক্ষেত্র, প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা, জাহাজবহর ও এলএনজি অবকাঠামোয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ওপরও গুরুত্ব দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তার মতে, এ ধরনের প্রকল্পের সিদ্ধান্ত কেবল বর্তমান উচ্চমূল্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া যায় না।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন