২২.২৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ক্রয়ের অনুমোদন ভারতের
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩০ এএম | ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
সশস্ত্র বাহিনীর আভিযানিক এবং যুদ্ধ সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যে ২ লাখ ১২ হাজার কোটি রুপির (২২ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার) বিশাল সামরিক ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে ভারত। ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (ডিএসি) সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর জন্য সর্বাধুনিক এসব সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অনুমোদিত এসব সামরিক সরঞ্জামের প্রায় ৮২ শতাংশই সংগ্রহ করা হবে দেশীয় শিল্পের কাছ থেকে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্প খাত আরও বেশি স্বনির্ভর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্রয়ের তালিকায় আধুনিক হেলিকপ্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার ড্রোনসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।
সেনাবাহিনীর জন্য উচ্চ-গতিসম্পন্ন বিশেষ যানবাহন (হাই-মোবিলিটি ভেহিকল) এবং স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং বন্দুক ব্যবস্থা (সেলফ-প্রোপেলড ট্র্যাকড গান সিস্টেম) কেনা হবে। এর ফলে কঠিন ও দুর্গম ভূখণ্ডে সেনাবাহিনীর যাতায়াত ও রসদ সরবরাহ অনেক সহজ হবে এবং তাদের আক্রমণের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে। পাশাপাশি ছোট আকারের আকাশযান থেকে তৈরি হওয়া হুমকি মোকাবিলায় অতি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোনের হামলা ঠেকাতে বিশেষ কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে। শত্রুর ওপর নজরদারি ও নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সরঞ্জামও পাবে সেনাবাহিনী।
অন্যদিকে, দূরপাল্লার ড্রোনগুলো মূলত সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী উভয়েই ব্যবহার করবে। এসব ড্রোন নজরদারি, সরাসরি যুদ্ধ, তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগকালীন ত্রাণ কার্যক্রমেও ব্যবহার করা যাবে। বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হবে বিশেষ ধরনের ইউটিলিটি হেলিকপ্টার এবং অস্ত্রশস্ত্র। দুর্গম সীমান্ত বা ফরোয়ার্ড এলাকায় আবহাওয়ার উচ্চ-রেজোলিউশনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে তাদের জন্য কেনা হবে ‘মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার রাডার’।
এ ছাড়া নৌবাহিনীর সুরক্ষার জন্য ‘অ্যাকটিভ অফবোর্ড ডিকয় সিস্টেম’ (এওডিএস) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ প্রযুক্তি শত্রুপক্ষের অত্যাধুনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করে নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে রক্ষা করবে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আরও কিছু প্ল্যাটফর্ম নৌবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।
এমআর/টিএ