আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন বাহিনী আজও ফ্যাসিবাদ মুক্ত হতে পারেনি– এরই পরিণতিতে নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা নির্বিচার হামলার শিকার হয়েছেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় গণঅধিকার পরিষদের একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথদল মিছিলে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে নুরসহ অন্তত ৫০ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।
এক বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতারা বলেন, প্রায় দুই হাজার শহীদ ও ২০ হাজার আহতের রক্তের বিনিময়ে একটি গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন বাহিনী ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়নি। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে যেভাবে এই বাহিনী দলীয় লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল, এখনো তারা একই কায়দায় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা নুরুল হক নুর ও তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
তারা বলেন, জাতীয় পার্টি ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর ও গণহত্যাকারীদের সহযোগী রাজনৈতিক দল। অবিলম্বে জাতীয় পার্টির নেতাদের বিচারের আওতায় আনা এবং দল হিসেবেও তাদের বিচার করতে হবে। পাশাপাশি এ হামলায় জড়িত সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। শুক্রবার রাতে বিজয় নগরে আল রাজী টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দেশের একটি গণমাধ্যমকেকে বলেন, পার্টি অফিসের সামনে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ওপর হামলা করে। এতে নুরুল হক নুর মারাত্মক আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার পর গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধাওয়া দিলে তারা আল রাজী টাওয়ারের সামনে চলে আসে। একই সময়ে সেখানে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নুরুল হক নুরসহ দলটির শীর্ষ নেতারা। পরে সেখানে তাদের লাঠিপেটা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা।
এর আগে সন্ধ্যায় বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
ইউটি/টিএ