ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের চলমান আন্দোলনে পুলিশের দমন-পীড়ন এবং এক বুয়েট শিক্ষার্থীর বোনকে ধর্ষণের হুমকির প্রতিবাদে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেছে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চাঁবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাঁদপুর শহরের খলিসাডুলী মঠখোলা অস্থায়ী ক্যাম্পাসের সামনের সড়কে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল কবির নিহাল, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন ও মো. সাব্বির শিক্ষার্থী বলেন, “ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে পুলিশের হামলা ও ধর্ষণের হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের সব ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কলেজের পক্ষ থেকে এই বর্বরতার প্রতিবাদে আজ সারাদেশেই মশাল মিছিল কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
চাঁবিপ্রবির ইঞ্জিনিয়ারিং সোসাইটির শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে বুয়েটের প্রস্তাবিত তিন দফা দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “এই তিন দফা শুধু বুয়েটের দাবি নয়, এটি এখন সারা দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি। আমরা দ্রুত এই দাবিগুলোর বাস্তবায়ন চাই এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তারা আরও বলেন, “বুয়েটের সাবেক এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ও হত্যার হুমকির আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা চাই, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত পুরো ক্যাম্পাস মশাল মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগানে রাস্তাজুড়ে প্রতিবাদের উত্তাপ ছড়িয়ে দেন। তাদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে ধ্বনিত হচ্ছিল “কোটা না মেধা, মেধায় মেধায়”।
“অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”। “ডিপ্লোমা তুই কোটা ছাড়”। “ছাগল দিয়ে হাল চাষ হবে না হবে না”। “আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম”। “ডিপ্লোমা তুই টেকনিশিয়ান, মানতে এতো চুলকানি কেন?”
ডিপ্লোমার সিন্ডিকেট ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও। পুলিশ তোর দালালি, বন্ধ কর বন্ধ কর। পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না
এই মশাল মিছিলের মধ্য দিয়ে চাঁবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তারা ন্যায্য দাবিতে আপসহীন এবং যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান দৃঢ়।
এমকে/এসএন