রাশিয়ার সাথে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি শান্তি চুক্তি "৯০ শতাংশ প্রস্তুত" বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
নিজের নববর্ষের ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেন 'যেকোনো মূল্যে' শাস্তি চায় না, বরং তারা সম্মানের সাথে যুদ্ধে সমাপ্তি চায়।
জেলেনস্কি বলেন, প্রায় চার বছর ধরে চলা এই সংঘাত অবসানের চুক্তির বাকি ১০ শতাংশ কাজই 'শান্তি, ইউক্রেন এবং ইউরোপের ভাগ্য' নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, 'আমরা যুদ্ধের শেষ চাই, কিন্তু ইউক্রেনের শেষ চাই না।'
পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সতর্ক করে জেলেনস্কি বলেন, সেখান থেকে সরে আসা মানে 'সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া'।
উল্লেখ্য, রাশিয়া যেকোনো শান্তি চুক্তিতে ডনবাসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছে। বর্তমানে ডনেস্কের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং লুহানস্কের ৯৯ শতাংশ রাশিয়ার দখলে রয়েছে।
নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রসঙ্গে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে আলোচনার পর ওয়াশিংটন ১৫ বছরের নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রস্তাব করেছে, তবে এর বাস্তবায়নের সময়সীমা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, 'দুর্বল চুক্তিতে স্বাক্ষর কেবল যুদ্ধকেই উসকে দেয়। বিশ্বকে হয় রাশিয়ার যুদ্ধ থামাতে হবে, নতুবা রাশিয়া বিশ্বকে তার যুদ্ধের মধ্যে টেনে আনবে।'
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার নববর্ষের সংক্ষিপ্ত ভাষণে সেনাদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আমরা আপনাদের ওপর এবং আমাদের বিজয়ে বিশ্বাস করি।' উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনও তার বার্তায় মস্কোর সাথে 'অজেয় জোটে'র প্রশংসা করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার তথ্যমতে, হাজার হাজার উত্তর কোরিয়ান সেনা ও অস্ত্র রাশিয়ার সহায়তায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বুধবার (৩১শে ডিসেম্বর) মস্কো অভিযোগ করেছে যে, ইউক্রেন রাশিয়ার ভলদাই হ্রদে পুতিনের ব্যক্তিগত বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
কিয়েভ এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা শান্তি আলোচনার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কায়া ক্যালাস রাশিয়ার এই অভিযোগকে 'ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি' এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।
জেলেনস্কি চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, আগামী ৬ জানুয়ারি প্যারিসে ইউরোপীয় দেশ ও মিত্ররা ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতি দিতে বৈঠকে বসবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত। স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে নিরাপত্তা গ্যারান্টি জোরদার করা নিয়ে আলোচনা চলছে।
টিজে/টিএ