সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে সৌদি আরবে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত বছর দেশটিতে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি কর্মী পাঠানো হয়েছে, যা একক কোনো দেশে এক বছরে সর্বোচ্চ জনশক্তি রপ্তানির নতুন রেকর্ড।
বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যারা প্রতি বছর ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন। গত বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১১ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, যার দুই-তৃতীয়াংশই বেছে নিয়েছেন সৌদি আরবকে।
বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন আরব নিউজকে জানান, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর হার ১৬ শতাংশ বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
বিশেষ করে সৌদি আরবের 'স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম'-এর আওতায় গত বছর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি কর্মী দেশটিতে গেছেন। দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে বর্তমানে সারাদেশে ২৮টি অনুমোদিত সেন্টারের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে যাচাইকরণ ও সনদ প্রদানের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া তেলসমৃদ্ধ দেশটির খনি খাতে জনবলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সম্প্রতি খনি শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু করেছে বিএমইটি। গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি নতুন কর্মসংস্থান চুক্তির ফলে কর্মীদের সুরক্ষা, বেতন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে।
এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের 'ভিশন ২০৩০' প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণ কাজে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যার ফলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশিদের জন্য সেখানে আরও প্রায় ৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ
এসএস/টিকে