মৌসুমের মাঝপথেই আচমকা কোচ এনজো মারেসকাকে বরখাস্ত করেছে চেলসি। সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডনের ক্লাবটির পারফরম্যান্স অপ্রত্যাশিত হলেও প্রধান কোচ বরখাস্ত হবেন এই ধারণা হয়তো অনেকেই করতে পারেননি। এনজোকে বিদায় করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সাবেক ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটির ভক্তরাও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। এরই মাঝে গুঞ্জন উঠেছে পরবর্তী কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদান কিংবা ইয়ুর্গেন ক্লপকে আনতে যাচ্ছে চেলসি!
তবে ইংলিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ বলছে, সামর্থ্যের বিচারে প্রমাণিত ও অভিজ্ঞ কাউকে আনার বদলে, লম্বা ভবিষ্যৎ গড়ার ভাবনায় তরুণ কোচের ওপরই আস্থা রাখতে চায় ব্লুজরা। অর্থাৎ, এনজো মারেসকার উত্তরসূরি হিসেবে ক্লপ বা জিদানের মতো বড় নামের কোচ নিয়োগের পথে হাঁটবে না চেলসি। তবে ২০২৬ সালের শুরুতেই আরেক দফা কোচ পরিবর্তনের পর নতুন ম্যানেজার খুঁজছে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম জায়ান্টরা।
মারেসকাকে হঠাৎ করেই বরখাস্ত করা হয়েছে নাকি ধীরে ধীরে তার বিদায়ের পথ প্রস্তুত হয়েছে তা উল্লেখ করেছে দ্য টেলিগ্রাফ।
চলতি মৌসুমে জয়ের অবস্থানে থেকেও ১৫ পয়েন্ট হারানো চেলসির কাছে মারেসকাকে ‘টেকসই নয়’ বলেই বিবেচিত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, কারাবাও কাপ ও এফএ কাপ- চার প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে থাকায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ক্লাবটি। এ ছাড়া মারেসকা চলতি মৌসুমেই ম্যানচেস্টার সিটি ও জুভেন্তাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন, যা তার চুক্তি অনুযায়ী চেলসির মালিকপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে ব্লুজ কর্তৃপক্ষ অসন্তুষ্ট হয়।
এনজো মারেসকার (বাঁয়ে) জায়গায় চেলসির কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে স্ট্রাসবুর্গের লিয়াম রোজেনিয়র
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মারেসকা স্পষ্ট করেছিলেন- নতুন চুক্তি পেলে তিনি অন্য ক্লাবের সঙ্গে সব আলোচনা বন্ধ করবেন। তবে চেলসি কর্তৃপক্ষ সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। কোচকে বরখাস্তের বিষয়ে চেলসি জানায়, ‘চেলসি ও প্রধান কোচ এনজো মারেসকা পারস্পরিক সমঝোতায় আলাদা হয়েছে। তার সময়ে দল উয়েফা কনফারেন্স লিগ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে সাফল্য অর্জন করেছে, যা ক্লাবের সাম্প্রতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে। আমরা তার অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। চারটি প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সামনে থাকায়, ক্লাব ও এনজো উভয়েই মনে করেছে এই পরিবর্তন দলকে সঠিক পথে ফেরানোর সর্বোত্তম সুযোগ দেবে। ভবিষ্যতের জন্য আমরা তাকে শুভকামনা জানাই।’
চেলসির পরবর্তী কোচ হওয়ার পথে এগিয়ে আছেন ফরাসি ক্লাব স্ট্রাসবুর্গের লিয়াম রোজেনিয়র। বলে রাখা ভালো, স্ট্রাসবুর্গ চেলসির মালিকানাধীন ব্লুকোর একটি সহযোগী ক্লাব। অনেক সমর্থকই চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী কোচ জিদান-ক্লপদের একজনকে দায়িত্বে দেখতে চান, কিন্তু টড বোয়েলির নেতৃত্বাধীন চেলসির দর্শন ভিন্ন। আগেও গ্রাহাম পটার ও মারেসকার মতো কোচদের ওপর আস্থা রেখেছিল চেলসি, তাদের লক্ষ্য ছিল দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ভিত গড়া। তবে বাস্তবে তারা পুরোপুরি স্থিতিশীলতা পায়নি।
এদিকে, ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেলসিতে এখন জয়ই একমাত্র বা প্রধান বিবেচ্য নয়। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের দলটি তরুণ ও সম্ভাবনাময় কোচদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে উদীয়মান খেলোয়াড় সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণেই ক্লপ বা জিদানের মতো অভিজ্ঞ কোচদের বিবেচনায় আনা হচ্ছে না। একসময় চেলসি হোসে মরিনিয়ো, কার্লো আনচেলত্তি, অ্যান্তোনিও কন্তে ও থমাস টুখেলের মতো বড় নাম বেছে দিয়েছিল। তবে চেলসিতে অভিজাত কোচ নিয়োগের দিন এখন অতীত। এখন চেলসি চায় তরুণ, উদীয়মান ও সহজে মানিয়ে নিতে সক্ষম এমন কোচ।
আরআই/এসএন