বলিউডে বহুমুখী প্রতিভা হিসেবে পরিচিত ফারহান আখতার আজ ৫২ বছরে পা রাখলেন। অভিনয়, পরিচালনা, গান লেখা ও গাওয়ার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিজীবনও বরাবরই কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে। জন্মদিনের আবহে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর শৈশব, বিশ্বাস আর পারিবারিক দর্শন। বিশেষ করে বাবা জাভেদ আখতারের চিন্তাধারাই যে ফারহানের মানসিক গঠনে গভীর ছাপ ফেলেছে, তা নিজেই বহুবার স্বীকার করেছেন অভিনেতা।
ফারহানের বেড়ে ওঠা এমন এক পরিবেশে, যেখানে ধর্মীয় আচার বা নিয়মকানুনের প্রভাব ছিল না বললেই চলে। জাভেদ আখতার ও হানি ইরানির সংসারে কোনও ধর্মকে কেন্দ্র করে অনুশাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে হবে বা বিশ্বাস করা যাবে না, এমন কোনও বাধ্যবাধকতাও ছিল না। বরং প্রশ্ন করতে শেখানোই ছিল শিক্ষার মূল ভিত্তি। ফারহানের কথায়, ধর্মহীন পরিবেশে বড় হলে মানুষ যুক্তি দিয়ে ভাবতে শেখে, কোনও কিছু অন্ধভাবে মেনে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে না।
শৈশবে ধর্ম মানে ছিল উৎসব। দোল, দীপাবলি, ইদ কিংবা বড়দিন সব উৎসবই তিনি উপভোগ করতেন সমান আনন্দে। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, খাওয়া-দাওয়া আর মিলেমিশে থাকার মধ্যেই ছিল উৎসবের আসল অর্থ। সেই সময় ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে সংস্কৃতির দিকটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাঁর কাছে। আজও তিনি এই উৎসবগুলিকে ধর্মের বদলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনের রূপ হিসেবেই দেখতে ভালোবাসেন।
ফারহানের বিশ্বাস, কেউ ঈশ্বরে আস্থা রেখে মানসিক শক্তি পেতে পারেন, আবার কেউ যুক্তি আর বিজ্ঞানের উপর ভরসা করেই আত্মবিশ্বাস খুঁজে নেন। তাঁর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পথটাই সহজ হয়েছে পারিবারিক পরিবেশের কারণে। এই চিন্তাধারাই তাঁকে জীবনের নানা সিদ্ধান্তে স্বাধীন ও স্পষ্ট করে তুলেছে।
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও বহু অধ্যায় পেরিয়েছেন ফারহান। প্রথম স্ত্রী অধুনা ভবানীর সঙ্গে দীর্ঘ দাম্পত্যের পর বিচ্ছেদ, তারপর শিবানী দান্ডেকরের সঙ্গে নতুন সংসার সব মিলিয়ে তাঁর জীবনও পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই এগিয়েছে। জন্মদিনের দিনে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়, ফারহান আখতারের মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে জাভেদ আখতারের যুক্তিবাদী দর্শনই সবচেয়ে বড় প্রভাবক।
পিআর/এসএন