অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে শেয়ার কেনার প্রমাণ পাওয়ায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা মেঘনা ব্যাংকের প্রায় সাড়ে চার কোটি শেয়ার অবরুদ্ধ বা জব্দ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই শেয়ার জব্দের আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট বর্তমানে এ অনুসন্ধান পরিচালনা করছে।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার ভাই ইউসিবি ব্যাংক পিএলসি এর সাবেক পরিচালক আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি এবং রনির স্ত্রী মেঘনা ব্যাংক পিএলসি-এর সাবেক পরিচালক ইমরানা জামান চৌধুরীর নামে এসব শেয়ার কেনা হয়েছিল।
অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তিগত হিসাব এবং তাদের কাগুজে প্রতিষ্ঠান 'স্টেডফাস্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেড' এর নামে মেঘনা ব্যাংকের মোট ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ২০০টি শেয়ার কেনা হয়। যার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। পরবর্তীতে স্টক ডিভিডেন্ড যোগ হয়ে বর্তমানে মোট শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৫টিতে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, জালিয়াতি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করেছিলেন। সেই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয় এবং পুনরায় দেশে এনে বৈধ করার চেষ্টাও করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২২ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিঙ্গাপুর ও দুবাই থেকে মোট ২ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৪৪৪ মার্কিন ডলার দেশে আনা হয়। অভিযুক্তদের সহযোগী আবুল কাসেমের মাধ্যমে এই অর্থ ইউসিবি ব্যাংক ও এনআরবিআইসি ব্যাংকের এফসি অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
পরবর্তীতে ইমরানা জামান চৌধুরী এবং স্টেডফাস্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেড-এর নামে ৬০ কোটি টাকা নগদ ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিয়ে কমিউনিটি ব্যাংকের একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ৫৯.৯৫ কোটি টাকা ব্যবহার করে মেঘনা ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়।
শেয়ার কেনার কাজে ব্যবহৃত প্রতিষ্ঠান 'স্টেডফাস্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেড' এর কাগজপত্রে উৎপল পালকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং নাসিম উদ্দিন মোহাম্মদ আদিলকে পরিচালক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সিআইডির অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, এই দুজনই সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের কর্মচারী এবং তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটন, সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
এমআই/টিএ