চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জামায়াতপন্থী প্রশাসনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিয়োগ জালিয়াতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে উপেক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে নিয়োগ বাণিজ্য চালানো হচ্ছে দাবি করে সংগঠনটি চবির উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল জানায়, প্রকৃত কোনো প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ মাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আরো ৩০৪টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সচল রাখা হয়েছে। মোট ৫৫৪ জনের এই নিয়োগ কার্যক্রম একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দল ভারি করার উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নিয়োগে স্বজনপ্রীতির সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হলো- চবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহীরা শামীমকে ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করে ১৯ ডিসেম্বর নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। ফিন্যান্স বিভাগের চারটি পদের বিপরীতে ৫১ জন আবেদন করলেও বহু যোগ্য প্রার্থীকে পরিকল্পিতভাবে পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়।
ছাত্রদল আরো জানায়, ডাকযোগে পরীক্ষার তারিখ জানানো, মাত্র ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং পরীক্ষার দিনই ফল প্রকাশসহ পুরো প্রক্রিয়া ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।
এমনকি মেধাতালিকায় ১২তম অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও উপ-উপাচার্যের কন্যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া অন্যান্য বিভাগেও স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে ছাত্রদল জানায়, ফিন্যান্স বিভাগের এক শিক্ষকের ছেলেকে ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কয়েকটি বিভাগে প্রকৃত চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে এবং বিভাগীয় সভাপতিদের আপত্তি উপেক্ষা করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের চার দফা দাবি হলো—
চবির উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ, উপ-উপাচার্যের কন্যাসহ সব বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল, ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও শাস্তি এবং আপত্তিকর সব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এমকে/টিএ