নতুন একটি বিমানবন্দর নির্মাণ করছে আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া। এরই মধ্যে বিমানবন্দরটি নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, চারটি রানওয়ে বিশিষ্ট এই বিমানবন্দর ‘আফ্রিকার সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর’ হতে যাচ্ছে। খবর রয়টার্সের।
এয়ারপোর্ট রুটসের তথ্য অনুযায়ী, ইথিওপিয়ায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে প্রায় ৫০-৬০টির মতো বিমানবন্দর আছে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স আফ্রিকার বৃহত্তম বিমান সংস্থা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তারা ছয়টি নতুন রুট যুক্ত করেছে এবং সংস্থাটির আয়ও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
এবার আন্তর্জাতিক মানের আরও বিমানবন্দর নির্মাণ শুরু করেছে দেশটি। রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করে।
রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বিশোফতু শহরে নির্মিত হচ্ছে বিমানবন্দরটি। শহরের নামানুসারে বিমানবন্দরের নামকরণ করা হয়েছে বিশোফতু ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
চারটি রানওয়ে বিশিষ্ট এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির নকশা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সই। বিমানবন্দরটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৫ বিলিয়ন ডলার।
২০৩০ সালে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। তখন এটাই হবে আফ্রিকার বৃহত্তম বিমানবন্দর। যাত্রী ও বিমান ওঠানামার সংখ্যার দিক দিয়ে বর্তমানে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় বা সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর মিশরের কায়রো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
উদ্বোধনের পর ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক বার্তায় বলেন, বিশোফ্তু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে আফ্রিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিমান অবকাঠামো প্রকল্প।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন বিমানবন্দরে একসাথে ২৭০টি বিমান পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে এবং বছরে ১১ কোটি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে।এটি ইথিওপিয়ার বর্তমান প্রধান বিমানবন্দরের সক্ষমতার চার গুণেরও বেশি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিমানবন্দরটি আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই যাত্রীচাপ সামাল দিতে অক্ষম হয়ে পড়বে।
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যানিং ডিরেক্টর আব্রাহাম তেসফায়ে সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৩০ শতাংশ অর্থায়ন করবে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স, বাকি অর্থ আসবে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে।
এই কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে ৬১ কোটি ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ভূমি উন্নয়ন (আর্থওর্কস) কাজের জন্য, যা এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। মূল নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদাররা ২০২৬ সালের আগস্টে কাজ শুরু করবে। প্রথমে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ বিলিয়ন ডলার, যা পরে বাড়িয়ে ১২.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়।
আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংস্থাটি গত আগস্টে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয় এবং আরও ৮.৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটিতে অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান আব্রাহাম তেসফায়ে।
এমআর/টিএ