ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই আইনসভায় উচ্চকক্ষের সুপারিশ: আলী রীয়াজ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই আইনসভায় উচ্চকক্ষ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এবারের গণভোটে জনগণ রায় দিলে আইনসভায় নাগরিকদের প্রতিটি ভোটের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।

গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ পুলিশ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম ও রংপুরের পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী।

রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বিভাগের সব জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্য সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, বিদ্যমান সংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নির্বাহী প্রধান, সংসদ নেতা এবং রাজনৈতিক দলের প্রধান।

তিনি বলেন, ক্ষমতা এককেন্দ্রিক করার কারণেই ক্ষমতাসীনরা ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার সুযোগ পায়। এ কারণেই জুলাই সনদে এক ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ ১০ বছরে সীমিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিষয়ক সংসদীয় কমিটিগুলোতে বিরোধীদলগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা হয়েছে।

গণভোটে সরকারের তরফে প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ গণভোটের মার্কা টিক চিহ্ন উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনের দিন গোলাপি রঙের ব্যালটে টিক চিহ্নের ওপর সিল দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা ও সুশাসিত বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে হবে।

যারা জুলাই সনদের পক্ষে নয় তারা ফ্যাসিস্টের পক্ষে উল্লেখ করে মনির হায়দার বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার বিগত ১৬ বছর সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে এক দানবীয় ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। বিদ্যমান সংবিধানের গুরুতর ত্রুটির কারণে আমরা বারবার তাদের হাতে জিম্মি হয়েছি। যারা ফ্যাসিবাদকে আবারো ফিরিয়ে আনতে চায় তারা জুলাই সনদ ও গণভোটকে ব্যর্থ করে দিতে চায়।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে ও সঠিক তথ্য জানাতে কাজ করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।

ধর্ম সচিব কামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারেনি। ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বারবার প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছে, মর্যাদা হারিয়েছে। সরকারি কর্মচারীরা সুশাসনের পক্ষে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণভোটের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

এসকে/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
‘আমাদের আয়ের বেশিরভাগ আসে আইসিসি ও স্পন্সর থেকেই’ Jan 15, 2026
img
পা ধরে সালাম করে হওয়া রাষ্ট্রপতি পেতে না চাইলে গণভোটে হ্যাঁ দিন: আলী রীয়াজ Jan 15, 2026
img
প্রতারণার ফাঁদে দীপক তিজোরী, পুলিশের দ্বারস্থ অভিনেতা! Jan 15, 2026
img
ঢাবির বাসে সাত কলেজের হামলায় সাংবাদিকসহ আহত ৭ Jan 15, 2026
img
অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত এবারের বিপিএল Jan 15, 2026
img
ইরানকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প Jan 15, 2026
img
ভাগ্য নয়, পরিশ্রমই জীবনের আসল শক্তি: মিঠুন চক্রবর্তী Jan 15, 2026
img

বরিশাল-৩ আসন

তারেক রহমানের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী Jan 15, 2026
img
মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় মেডিকেল কলেজ বন্ধ করল ভারত Jan 15, 2026
img
সরকারি প্রকল্পের গাছ কাটতেও নিতে হবে অনুমতি: হাইকোর্ট Jan 15, 2026
img
সহ-অভিনেতা থেকে র‍্যাপার, সানার প্রেমের জল্পনা! Jan 15, 2026
img

শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তিতে লেনদেন নয় Jan 15, 2026
img
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ করবে ইনকিলাব মঞ্চ Jan 15, 2026
img
সমঝোতায় লিখিত নীতিমালা ও কিছু ‘ওপেন আসন’ রাখার প্রস্তাব এবি পার্টির Jan 15, 2026
img
শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা Jan 15, 2026
img
চট্টগ্রাম-৭ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপির নেতা হুম্মাম কাদের Jan 15, 2026
img
বিএনপির ৪ শাখার কমিটি স্থগিত Jan 15, 2026
img
হবিগঞ্জের পইল গ্রামে ৩ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা শুরু Jan 15, 2026
img
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চায় না তুরস্ক Jan 15, 2026
img
১২ বছর পরে আবার একসঙ্গে দেব-অনিরুদ্ধ জুটি! Jan 15, 2026