ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ‘হস্তক্ষেপমূলক ও উসকানিমূলক’ নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে এক টেলিফোনালাপে এসব মন্তব্য করেন আরাগচি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের বিভিন্ন শহরে অর্থনৈতিক সমস্যা ঘিরে যে বিক্ষোভ হয়েছে, সে প্রসঙ্গেই এই আলোচনা হয়।
ফোনালাপে আরাগচি বলেন, শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকা এসব বিক্ষোভকে প্রশিক্ষিত বিদেশি সন্ত্রাসীরা সহিংস দাঙ্গায় রূপ দিয়েছে। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্য ও দৃঢ় সংকল্প বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এ সময় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং উত্তেজনা আরও বাড়তে না দেওয়ার জন্য সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি এ লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য নয়াদিল্লির প্রস্তুতির কথাও জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জয়শঙ্কর জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে তারা ‘ইরান ও আশপাশের অঞ্চলের পরিবর্তিত পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে ইরানের বিভিন্ন শহরে অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিদেশি-সমর্থিত গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপে এসব বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
এদিকে বুধবার এক্সে দেওয়া আরেকটি পোস্টে আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানোর জন্য ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার বিষয়ে যেন তিনি সচেতন থাকেন।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, যদি ইরান তথাকথিত ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের’ হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারে—এমন হুমকিও তিনি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বারবার দিয়েছেন।
সূত্র: প্রেস টিভি