প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, দেশে যেন হাসিনাশাহীর মতো একটা দৈত্য-দানব সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আপনারা সবাই “হ্যাঁ” ভোট দেবেন। নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন যথাসময়ে ভালোভাবে হবে। নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। যারা “হ্যাঁ” ভোট নিয়ে সমালোচনা করছেন, তাদের আসলে জানার পরিধি কম। সারা পৃথিবীতে যেসব দেশে গণভোট হয়েছে, সেখানে ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখবেন যে সরকার সেখানে একটা পক্ষ নেয়। গণভোটের পক্ষে কথা বলে। ব্রিটেনেও এরকম “হ্যাঁ-না” ভোটের ঘটনা অনেক ঘটেছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া খড়মপুর কেল্লা শহীদ (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সফরকালে প্রেস সচিবের সঙ্গে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া তাপসী, সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাজমুস সাকিব, আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম, খড়মপুর মাজার শরিফ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব আরো বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন খুব ভালোভাবে হবে। গতকালও কেবিনেট মিটিংয়ে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে কি ধরনের প্রস্তুতি আছে। এবার ফ্রি, ফেয়ার, পিসফুল উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। যত ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার সেটা করা হয়েছে। নিরাপত্তার প্রস্তুতি শেষ। রিটানিং, পোলিং অফিসারসহ অন্যান্যসহ কার্যক্রমও শেষ। আমরা এখন নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছি। পোস্টাল ব্যালটের কাজও শেষ হয়েছে। এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন নিশ্চয়ই ভালোভাবে দেখছে।
প্রেস সচিব বলেন, আমাদের সরকার হচ্ছে সংস্কারের সরকার। দেশে অপশাসন দূর করার জন্য এই সরকার এসেছে। দেশের স্বৈরাচার যেন আর ফিরে না আসতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এই যে সংস্কারের সমষ্টি, সবগুলো মিলিয়ে গণভোট হচ্ছে। আমরা সবাইকে বলেছি, আপনারা সবাই “হ্যাঁ” ভোট দেবেন। যাতে দেশে হাসিনাশাহীর মতো একটা দৈত্য-দানব আর সৃষ্টি না হয়। আপনার অধিকার কেড়ে না নেয়া হয়।
ব্যাংকিং খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনার ব্যাংকগুলোকে খালি করে কেউ যেন আর দুই-তিন লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করতে না পারে। তারা ব্যাংকগুলোর নাজুক পরিস্থিতি করে গেছে। আমাদের বর্তমান সরকার ব্যাংকগুলোকে রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। উনারা ব্যাংকগুলোকে চুরি-চামারি করে চেটেপুটে খেয়ে রেখে গেছেন। ওই ব্যাংকগুলোকে বাঁচানোর দায়িত্ব পড়েছে এ সরকারের ওপর।’
ভোটের আগের দিন ব্যালট ছাপানো নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার শঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল আলম বলেন, ‘রুমিন ফারহানার এমন শঙ্কা অমূলক। আমরা আমাদের কাজেই তা প্রমাণ করব। এ সরকার খুবই নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতমুক্ত। এই সরকারের কারো প্রতি কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই।
গণমাধ্যমকর্মীদের বেতন বৈষম্য সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মালিকরা যারা সাংবাদিকদের পত্রিকায় নিয়োগ দেন, তারা সাংবাদিকদের অধিকার খর্ব করেন। আপনারা যারা হরতাল-আন্দোলন কাভার করেন, তারা আপনাদের কাউকে কি একটি হেলমেট বা ব্যাজ কিনে দিয়েছেন? উনারা খালি বড় বড় কথা বলেন।
গত বৃহস্পতিবার যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, সেটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। সেখানে কোনো ডিনার (রাতের খাবার) হয়নি। তিনি পরিবার নিয়ে এসেছিলেন এবং সেখানে অফিসিয়াল কেউ ছিলেন না। পুরোটা একটি পারিবারিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। কেউ কেউ গণমাধ্যমে লিখছেন ডিনার হয়েছে, সেটি একদম মিথ্যা কথা।
এবি/টিকে