বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বৃহস্পতিবার যাতায়াত করেছে ১৪৩৭ জন পাসপোর্টধারী। এসময় ভারতের সঙ্গে ২৮৯ ট্রাক পণ্যের আমদানি, রফতানি বাণিজ্য হয়েছে। এতে ভ্রমণ খাতে সরকারের প্রায় ১৪ লাখ টাকা আর বাণিজ্য খাতে প্রায় ১২ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন বেনাপোল রুটে বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, শুক্রবার বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিনিময়ে মিলেছে ৭৪.৫০ ভারতীয় রুপি এবং ভারতীয় ১০০ রুপিতে বাংলাদেশি টাকা পাওয়া গেছে ১৩২ টাকা। প্রতি ইউএস ডলারের ক্রয় মূল্য ছিল ১২৫ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১২৬ টাকা।
বন্দরের তথ্য মতে, বেনাপোল ও পেট্রাপোলের মধ্যে সকাল ৯টা থেকে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়। বৃহস্পতিবার আমদানি হয় ২৩৩ ট্রাক। আমদানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিকেল, শিশু খাদ্য, মেশিনারিজ দ্রব্য, অক্সিজেন, বিভিন্ন প্রকারের ফল, চাল, পেঁয়াজ, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য। রফতানি হয়েছে ৫৬ ট্রাক পণ্য।
পণ্যের মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা টিস্যু, মেলামাইন, কেমিকেল মাছ ও ওয়ালটন পণ্য সামগ্রী। ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেনাপোল স্থলপথে পাট, পাটজাত দ্রব্য তৈরি পোশাক, কাঠের তৈরি আসবাব পত্রসহ কয়েকটি পণ্য রফতানি হয়না। দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় সুতাসহ কয়েকটি পণ্য আমদানি সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বন্ধ আছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সামসুর রহমান জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। তবে গতবছরের ৫ আগস্টের পর দুই দেশের একের পর এক বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞায় আমদানি, রফতানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত অর্ধেকের নিচে কমে এসেছে। এক বছর ধরে বন্ধ দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে গত বছরে তার আগের বছরের চেয়ে দেড় লাখ টনের বেশি পণ্য আমদানি কমেছে। এতে চলতি অর্থবছরের গেল ৬ মাসে লক্ষমাত্রার চেয়ে এক হাজার ১৩ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। বাণিজ্যে পরিবেশ ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ইমিগ্রেশন তথ্য জানান, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬টা থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে শুরু হয় পাসপোর্টধারী যাতায়াত। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট যাতায়াত করেছে ১৪৩৭ জন। এদের মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে ৮৩০ জন। এসময় ভারত থেকে ফিরেছে ৬০৭ জন। ৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতায় পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমে যায়।
এদিকে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, রেল পথে এসিআই মটরস নামে আমদানিকারকের কেবল ভারত থেকে ট্রাক্টর আমদানি হয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রেলে অনান্য পণ্যের আমিদানি এবং ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এসএস/টিএ