এক সপ্তাহব্যাপী ব্যাপক অস্থিরতা ও সহিংসতার পর অবশেষে সারা দেশে শান্তি ও স্থিতি ফিরে এসেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পুলিশ প্রধান। তিনি জানান, দেশের বাইরে থেকে নতুন করে দাঙ্গার উস্কানি দেওয়া সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার রাতটি ছিল অস্থিরতা শুরুর পর থেকে সবচেয়ে শান্ত রাত।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদরেজা রাদান নিশ্চিত করেছেন, বৃহস্পতিবার রাতে দেশজুড়ে কোথাও কোনো সমাবেশের খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে এবং জনগণের সচেতন উপস্থিতির কারণে সন্ত্রাসবাদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক দরপতন এবং চরম অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে দোকানদার, ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু করেন। শুরুতে এটি অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হলেও পরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, শ্রমিক এবং সাধারণ জনতা অংশ নেয়।
কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, প্রাথমিক অর্থনৈতিক বিক্ষোভ পরবর্তীতে সহিংস দাঙ্গায় পরিণত হয়, যেখানে সরকারি সম্পত্তি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফারস, কেরমান, হরমোজগান এবং গোলেস্তানসহ বিভিন্ন প্রদেশে গোয়েন্দা অভিযান চালিয়ে অস্থিরতার সাথে জড়িত সন্দেহে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং সামরিক গ্রেডের গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, এই সহিংসতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদ ও অর্থায়ন রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে অন্তত ২,৬৭৭ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৯,১০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
তথ্যসূত্র মিডল ইস্ট মনিটর
এমআই/টিএ