আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নেমেছেন খুলনা-৫ আসনের জামায়াত ইসলাম মনোনীত প্রার্থী ও দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল আটটা থেকে গণসংযোগ ও প্রচারণা শুরু করেন ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়ন থেকে। সকালে ৮টায় ধামালিয়া ইউনিয়ন নির্বাচনী কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। পরে সেখানে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িতে বাড়িতে গণসংযোগ করেন। এছাড়া দিনব্যাপী ধামালিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে উঠান বৈঠক সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এ সময় তিনি বলেন, একটি বৈষম্যহীন দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে তার দলের আগামী দিনের পরিকল্পনার বিষয়ে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এছাড়া আগামীর বাংলাদেশ কে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মকে বেশি করে সুযোগ দেয়ার কথা জানান।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে-তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের কোনো শাসনই দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন বা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সফল হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিটি শাসনামলেই বিদেশে অর্থ পাচার, বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন, মিথ্যা মামলা, রিমান্ড, ক্রসফায়ার ও দীর্ঘ কারাবাসের ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে সরকারি দলের লোকজন গুরুতর অপরাধ করেও সহজেই জামিন পেয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘এই অন্যায় ও ইনজাস্টিসের অবসান ঘটাতে আমরা দেশবাসীর সামনে ‘নতুন বাংলাদেশ’ ও মানবিক বাংলাদেশ এর স্বপ্ন তুলে ধরছি। যেখানে থাকবে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সামাজিক ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা, স্থিতিশীল রাজনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার জন্য অনুকূল পরিবেশ।’
জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, চরিত্র, নৈতিকতা ও সততার পরীক্ষায় জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে জাতির সঙ্গে পরীক্ষিত হয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইসলামী চেতনা, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে বিশ্বাসী মোট ১০টি দল একত্রিত হয়ে এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চায়, যারা অতীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে ব্যর্থ হয়নি, বরং এখনো রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়নি।
ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার প্রধান সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ। ভবথা, ডাকাতিয়া, সালাতিয়া, মধুগ্রাম, সাবাড়িয়া, ঘোষরা ও বাদুড়ি বিলসহ অসংখ্য বিলে বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। নির্বাচিত হলে এসব এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মস্তানিমুক্ত জনপদ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে ডুমুরিয়া–ফুলতলাকে একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করা হবে।
টিজে/টিএ