জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত 'বোর্ড অব পিস' বা শান্তি পরিষদ শুরুতেই এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বোর্ডের যাত্রা শুরু হলেও, এতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রায় অর্ধেক দেশই বর্তমানে আমেরিকার কঠোর 'ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা' বা ট্রাভেল ব্যান তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
ট্রাম্প এই শান্তি বোর্ডের উদ্বোধনী মঞ্চে যে ১৮টি দেশের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে বন্ধু বলে সম্বোধন করেছেন, তাদের প্রায় অর্ধেক দেশই বর্তমান আমেরিকার কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা ট্রাভেল ব্যান তালিকার অন্তর্ভুক্ত। নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা এই দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে আমেনিয়া, আজারবাইজান জর্ডান কসোভো মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান এবং উদ্ভজবেকিস্তান।
অবাক করার বিষয় হলো, ট্রাম্প প্রশাসন এসব দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রেখেছে। কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, যাদের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ, তারা কীভাবে আমেরিকার নেতৃত্বে বৈশ্বিক শান্তি সংস্থার মূল কারিগর হতে পারে?
ট্রাম্প নিজে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মঞ্চে উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধো আর্জেন্টিনা, বাহরাইন, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, প্যারাওয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও ছিল। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো প্রভাবশালী দেশকে এখানে দেখা যায়নি। গুঞ্জন রয়েছে যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাসিমির পুতিনকেও এতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রতিটি সদস্য দেশকে এই বোর্ডে যোগ দিতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলার অবদান রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে সদস্য হিসেবে ঘোষণা করায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
একই সম্মেলনে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার নিউ গাজা'র একটি বিতর্কিত নকশা উন্মোচন করেছেন। সিজিআই প্রযুক্তিতে তৈরি এই নকশায় ধ্বংসস্তূপের গাজাকে একটি আধুনিক পর্যটন স্বর্গ বা রিভিয়েরা হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই পরিকল্পনায় রয়েছে অত্যাধুনিক ভোঁটা সেন্টার, ১ লক্ষ আবাসন ইউনিট এবং ৭৫টি চিকিৎসা কেন্দ্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি গত বছরের একটি এআই-জেনারেটেড ভিডিওর অনুকরণ মাত্র। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই বোর্ড গাজার নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করবে এবং এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। তবে বিপুল এন্ট্রি ফি এবং নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশগুলোর অংশগ্রহণ এই সংস্থাকে একটি ধনকুবেরদের ক্লাব' হিসেবেই বেশি চিহ্নিত করছে।
তথ্যসূত্র: ইনডিপেন্ডেন্ট