জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর আমাদের দেশের মান, মর্যাদা অন্য জায়গায় বন্ধক রাখা হয়েছিল। অন্য দেশের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছিল। আমরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, এখন থেকে আধিপত্যবাদের চিহ্ন বাংলাদেশে রাখা হবে না। আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরোয়া করবো না।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ দেশে মুক্তিকামী জনতার উত্থান দেখে কারো কারো গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। তারা ফুসফাস করছে। তাদের বলব, বন্ধু হয়ে থাকো, ভাই হয়ে থাকো, আমাদের যে প্রতিবেশী সে প্রতিবেশী হয়ে থাকো।
আপনাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা নাক গলাতে যাব না, তেমনি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আপনারা নাক গলাতে আসবেন না। অনেক গলিয়েছেন, সর্দিটা এবার সামলান। এখন নাকটা একটু পরিষ্কার রাখেন।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘এই সবকিছুর জন্য একটা পরিবর্তন দরকার। বস্তা পঁচা রাজনীতিকে বলা দরকার তোমাদের লালকার্ড। এর জন্য দরকার একটা অর্থবহ সংস্কার। এই জন্য আমাদের প্রথম ভোটটা হবে গণভোটে হ্যাঁ। গণভোটে হ্যাঁ মানে হলো আজাদী, না বলা মানে হচ্ছে গোলামি। হ্যাঁ ভোট পরাজিত হলে সরকার গঠন হলে কিছুই হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ যদি জনগণের ভালবাসায় আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেন তাহলে দুর্নীতি আমরা করবো না এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেব না। চাঁদাওয়ালাদের হাত বন্ধ করে দেব। আমরা বলেছি, সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম করা আমাদের অঙ্গীকার। আমরা সারা সমাজের সর্বত্র ন্যায়বিচার চাই। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যেমন আইনের আওতায় আনা হবে, তেমনি দেশের প্রেসিডেন্ট একই অপরাধ করলে তার চোখ আর মুখের দিকে তাকানো হবে না। তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। সেই ন্যায়বিচার আমরা নিশ্চিত করতে চাই। এতে যদি গরম ভাতে বিলাই বেজার হয় আমাদের কিছু আসে যায় না।’
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমাদের ১১ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে জেলের মধ্যে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে ফ্যাসিস্টরা। আমিরে জামায়াত মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যা করা হয়েছে। পাঁচ বারের এমপি মাওলানা আব্দুস সোবহানকেও জেলের ভিতরে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে। সেদিন চোখের পানিতে পাবনায় রেখে গিয়েছিলাম। তারা যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিদায় নিয়েছেন, আমরাও সেই কাজ করছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কি চাই সেই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক? এদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে হবে। একসঙ্গে ১৫ বছর মজলুম ছিলাম। আমাদের এক হাজারের বেশি সহকর্মীকে খুন করা হয়েছে। ৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। এক মিনিটও অফিস খুলতে পারিনি। নেতৃবৃন্দের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হয়েছে। ৫ আগস্টের পরিবর্তনের সঙ্গে ধৈর্য ধরার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি মানুষের হয়ে চৌকিদারের ভূমিকায় থেকেছি। আপনারাও মজলুম ছিলেন, জালিমের ভূমিকায় আসবেন না।’
বিএনপিকে উদ্দেশ করে জামায়াতের আমির আরো বলেন, ‘৬ তারিখের পর অনেকে চাঁদা আদায় করছে, দখলবাজি করছে। ওই দখলের নাম বললে তারা আবার গোসসা করে। এটা ভালো লক্ষণ নয়। আমরা মানুষের দুঃখ বোঝার চেষ্টা করছি। আমরা চাঁদা নিব না, যদি সরকার গঠন করি তাহলে চাঁদাবাজের হাত বন্ধ করে দিবো। আমরা তোমাদের জন্য হালাল রুজীর কাজ তুলে দিব। সম্মানের সঙ্গে চলবে, মাথা উঁচু করে চলবে।’
পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও পাবনা-৪ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খানের সঞ্চালনায় জনসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-১ আসনে জামায়াতের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যরিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, পাবনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিন, পাবনা-৩ আসনে দলটির প্রার্থী মাওলানা আসগর আলী, পাবনা-৫ আসনের প্রার্থী প্রিন্সিপাল মাওলানা ইকবাল হোসাইন, কেন্দ্রীয় শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসাসহ প্রমুখ।
আইকে/টিএ