সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত ও দুর্নীতিমুক্ত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে ইউনিভার্সাল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাতা ও সহায়তা বণ্টনে বৈষম্য কমানো এবং প্রকৃতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়াই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি এক আলোচনায় অংশ নিয়ে এক বক্তা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের অধীনে ১৩৮টি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু রয়েছে। তবে এসব প্রকল্পে সমন্বয়ের অভাবে দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ একাধিক সুবিধা পাচ্ছেন, আবার অনেক প্রকৃত দরিদ্র মানুষ কোনো সহায়তাই পাচ্ছেন না। এতে একদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে বৈষম্য।
এই সমস্যা সমাধানে ফ্যামিলি কার্ডকে সার্বজনীন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ব্যাখ্যায়, একজন কৃষকের স্ত্রী, একজন ভ্যানচালকের স্ত্রী কিংবা একজন সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী—সবার জন্যই কার্ডটি থাকবে। তবে যাদের প্রকৃতপক্ষে সহায়তার প্রয়োজন নেই, তারা স্বেচ্ছায় এই সুবিধা নেবেন না—এমনটাই সরকারের প্রত্যাশা।
বক্তা আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে গড়ে একটি পরিবারে পাঁচজন সদস্য ধরা হলে দেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। শুরুতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে এই কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হবে।
ইউনিভার্সাল ব্যবস্থার আরেকটি বড় উদ্দেশ্য হলো দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে আনা। নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি নির্ধারণ করে সহায়তা দিলে অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু সার্বজনীন কাঠামো চালু হলে এই আকর্ষণ ও চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিনি বলেন, দুর্নীতি পুরোপুরি শূন্যে নামানো সম্ভব না হলেও, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তা যতটা সম্ভব সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যাবে। সরকারের লক্ষ্য হলো সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও কার্যকর করা।
ইউটি/টিএ