যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ তুষারঝড়ে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ের কারণে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে লাখো মানুষ অন্ধকারে রয়েছে এবং বরফে ঢেকে যাওয়ায় প্রধান সড়কগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। খবর এপির।
নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি মানুষ শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতার আওতায় রয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ভারী তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি ও হিমবৃষ্টি হতে পারে এবং তীব্র শীত কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।
পরিস্থিতির কারণে দেশজুড়ে ভ্রমণ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ও রোববার মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১৩ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, শিকাগো, আটলান্টা, ওকলাহোমা সিটি ও ওয়াশিংটনের বড় বিমানবন্দরগুলোতে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অনেক বিমানবন্দরে শনিবারের সব ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়।
ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত ১২টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (এফইএমএ) আগেভাগেই ত্রাণসামগ্রী, কর্মী ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে। কর্তৃপক্ষ জনগণকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না বের হতে এবং নিরাপদে অবস্থান করতে আহ্বান জানিয়েছে।
বরফের ভারে গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় টেক্সাস ও লুইসিয়ানাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় বাড়িঘর ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জর্জিয়ার কর্মকর্তারা এটিকে গত এক দশকের সবচেয়ে বড় বরফঝড়গুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন।
একইসঙ্গে বাসিন্দাদের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
আরআই/টিকে