দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) প্রথমবারের মতো নারী ও পুরুষ ফুটসাল টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। অভিষেক আসরেই বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আজ (রোববার) নিজেদের শেষ ম্যাচে ১৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মালদ্বীপকে। ছয় ম্যাচে সাবিনা খাতুনদের পয়েন্ট ১৬। সাত দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশেয়ের মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
গত পরশু ভারত-ভুটান ম্যাচ ড্র হলে সাবিনারা আজকের ম্যাচের আগেই চ্যাম্পিয়ন হতে পারতেন। ওই ম্যাচে ভুটান জেতায় শিরোপা নিশ্চিতে আজকের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। নারী ফুটসালে মালদ্বীপ সবচেয়ে দুর্বল শক্তির দল। ফলে বাংলাদেশের জয় অনুমেয়-ই ছিল।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সাফ ফুটসালের ম্যাচগুলো এতদিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা থেকে শুরু হতো। আজ নারী ফুটসালের শেষ ম্যাচের দিন প্রথম খেলা শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায়। ম্যাচের শুরু থেকে বাংলাদেশ মালদ্বীপের ওপর আক্রমণ শাণাতে থাকে। প্রথমার্ধে ৬-১ গোলে এগিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন সাবিনা-মাসুরারা। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আরও ৮ গোল করে। এই টুর্নামেন্টে এটাই কোনো দলের সর্বোচ্চ গোলের কীর্তি।
অধিনায়ক সাবিনা খাতুন আজ সর্বোচ্চ ৪টি গোল করেন। এই টুর্নামেন্টে তার গোল সংখ্যা ১৩। বাংলাদেশের প্রতি ম্যাচে ধারাভাষ্যকার সাবিনার প্রশংসা করেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ টানা দুই বার সাফ ফুটবলের পর ফুটসালেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বাংলাদেশের নারী ফুটবলের কিংবদন্তি সাবিনা খাতুন বাটলারের কাছে অপাঙক্তেয়। তাই জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পেও ডাক পান না সাফজয়ী অধিনায়ক।
সাফ নারী ও পুরুষ ফুটসাল উভয় টুর্নামেন্টে সাতটি দল অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ পুরুষ ফুটসাল দল তৃতীয়ও হতে পারেনি। অথচ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নারী দল। প্রথম ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে শুভসূচনা করে তারা। পরে ভুটানকে ৩-৩ গোলে বাংলাদেশকে রুখে দেয়। এরপর শ্রীলঙ্কা,পাকিস্তান ও নেপালকে হারিয়ে শিরোপার সুবাস পাচ্ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আজ শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন সাবিনারা। ছয় ম্যাচে বাংলাদেশ ৩৮ গোল করেছে, এর বিপরীতে মাত্র ৯ গোল হজম করেছে। টুর্নামেন্টজুড়ে গোলরক্ষক সুমাইয়া ঝিলি দুর্দান্ত খেলেছেন।
আরআই/টিকে