বরগুনার জেলা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করে হামলা চালিয়েছে এক যুবক। এতে জহিরুল ইসলাম নামে অফিসের এক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
তবে এ সময় জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার অফিসে না থাকায় তার অফিস কক্ষটি ফাঁকা ছিল। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
হামলাকারী ওই যুবকের নাম মো. ইব্রাহীম খলিল (৩০)। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাঁশবুনিয়া নামক এলাকার মো. ইউনুস দফাদারের ছেলে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অফিসের কাজে জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার সকালে বরগুনার তালতলী উপজেলায় যান। এ কারণে তার অফিস কক্ষটি ফাঁকা ছিল। এ সুযোগে হঠাৎ করে গোপনে একটি ১৪-১৫ ইঞ্চি সাইজের সেলাই রেঞ্জ নিয়ে ওই কক্ষে ঢুকে পড়েন ইব্রাহীম খলিল। পরে জেলা প্রশাসক অফিসের সিএ মো. জহিরুল বিষয়টি টের পেয়ে ওই কক্ষে যান। কি কারণে ডিসির কক্ষে প্রবেশ করছে জানতে চাইলে ইব্রাহিম তার সঙ্গে থাকা সেলাই রেঞ্জটি দিয়ে জহিরুলকে আঘাত করেন। পরে জহিরুলের চিৎকারে অফিসের দায়িত্বরত অন্য কর্মকর্তা হামলাকারী ইব্রাহিমকে আটকে রেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
আহত মো. জহিরুল বলেন, আমি আমার কক্ষে কাজ করছিলাম। সেখান থেকে বের হয়ে দেখি কেউ একজন ডিসি স্যারের রুমে প্রবেশ করছেন। স্যার যেহেতু অফিসে নেই, এ কারণে স্যারের রুমে গিয়ে দেখি হামলাকারী ওই ছেলে ভেতরে আছেন। পরে কি কারণে রুমে ঢুকেছে জানতে চেয়ে তাকে রুম থেকে বের হতে বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সেলাই রেঞ্জটি দিয়ে আঘাত করে আমাকে আহত করে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গোপনীয় শাখার অফিস সহায়ক মো. জুয়েল রানা বলেন, সকালে অফিসে এসে কাজ করছিলাম। পরে রুমের বাইরে আমিনুল নামে এক স্টাফের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তিকে যেতে দেখে জানতে চাই কি কারণে আসছেন। পরে সে আমাকে বলে ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। এ সময় স্যার অফিসে নাই জানিয়ে তাকে আগামী কালকে আসতে বলি। এরপর সে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই হামলার শিকার জহিরুল স্যার আমাকে ডাকতে থাকেন। পরে দ্রুত দৌড়ে গিয়ে দেখি জহিরুল স্যারের ওপর হামলা করা হচ্ছে। পরে আমরা কয়েকজন মিলে ওই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে আমাদের রুমে নিয়ে আসি। পরে অফিসের কর্মকর্তাদের অবহিত করলে পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, আজ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার সময় একজন ব্যক্তি আনুমানিক বয়স ৩০-৩৫ হবে সে হঠাৎ ডিসি স্যারের রুমে প্রবেশ করে। তার কাছে একটি অব্যবহৃত সেলাই রেঞ্জ পাওয়া গেছে। তবে কি কারণে এবং কি উদ্দেশ্যে আসছে বিষয়টি এখন তদন্তধীন আছে। আমরা তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছি এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার প্রস্তুতি চলছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিচে ছিল। পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা ছিল। অফিসে প্রতিদিনই বিভিন্ন মানুষ আসেন। এছাড়াও গণশুনানিতে অনেক মানুষ আসেন। এ কারণেই তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে হয়তো ওই লোক ভিতরে চলে এসেছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলার ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজন এবং সে ধরনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও নিরাপত্তার জন্য দুই তিন স্তরের ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, ইব্রাহীম খলিল নামে এক হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞেসাবদের জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এমআই/এসএন