বনগাঁর একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়ে চরম অপমানের মুখে পড়লেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। রবিবার নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। অনুষ্ঠানে পৌঁছতে কিছুটা দেরি হলেও মঞ্চে উঠেই দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভরে যায় গোটা প্রাঙ্গণ। ছবি তোলা, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা সব মিলিয়ে মুহূর্তেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। অভিযোগ, পারফরম্যান্সের মাঝেই আয়োজক সংস্থার কয়েকজন সদস্য মিমিকে জোর করে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন। দেরিতে আসার অভিযোগ তুলে তাঁকে আর অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। আচমকা এমন ব্যবহারে হতবাক হয়ে যান অভিনেত্রী ও উপস্থিত দর্শকরা। মিমির দাবি, কোনও রকম পূর্ব সতর্কতা বা আলোচনা ছাড়াই তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যা চরম অসম্মানজনক।
ঘটনার পর নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ক্ষোভ উগরে দেন মিমি। সেখানে তিনি লেখেন, মঞ্চে এমন হেনস্তা কখনওই বরদাস্ত করা যায় না। আজ চুপ থাকলে আগামী দিনেও এমন ঘটনা ঘটতে থাকবে। সেই কারণেই তিনি আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বনগাঁ থানায় হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিনেত্রী। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
অন্যদিকে, উদ্যোক্তাদের তরফে পালটা দাবি করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, চুক্তি অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার মধ্যে মিমির পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু অভিনেত্রী রাত সাড়ে এগারোটার পর অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছন। দীর্ঘ অপেক্ষায় দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতেই মিমি মঞ্চে উঠলে তাঁকে পারফর্ম করতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি আয়োজকদের। যদিও অভিযোগ উঠেছে, নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘের সদস্য তনয় শাস্ত্রী নামের এক ব্যক্তি সরাসরি মিমিকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন। এই বিষয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
এই ঘটনার পর ফের শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে প্রশ্ন উঠল। জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়েও এমন অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হলে, সাধারণ শিল্পীদের পরিস্থিতি কতটা কঠিন সেই প্রশ্নও উঠছে। মিমির স্পষ্ট বক্তব্য, সম্মানের জায়গা থেকে কোনও আপস নয়। সত্যের পাশে দাঁড়াতেই তিনি থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।
পিআর/টিকে