নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা হচ্ছে না। টাইগারদের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে টিকিট দিয়েছে আইসিসি। ‘সি’ গ্রুপে যোগ দিয়ে তারা সঙ্গী হচ্ছে ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তবে বিশ্বকাপ খেলতে না পারা যে প্রতিটি ক্রিকেটারের জন্যই খারাপ লাগার ব্যাপার, তা অকপটেই স্বীকার করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী বিমানবন্দরে পৌঁছায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সেখান থেকেই শুরু হয় প্যারেড। চ্যাম্পিয়নদের বহনকারী বাস আমচত্বর হয়ে পৌঁছায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতেন শিক্ষার্থীরা। পথে ক্রিকেট প্রেমীদের সঙ্গে উৎসবে মাতেন শান্ত-মুশফিক, তানজিদ, আকবররা।
বাসে চড়েই পুরো রাজশাহী শহর প্রদক্ষিণ করেন বিপিএল চ্যাম্পিয়নরা। ক্যাম্পাসের পর তালাইমারি, আলুপট্টি, সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, বর্ণালীর মোড়, রেলগেট হয়ে আমচত্বর। পথে পথে বিপুলসংখ্যক ক্রিকেটপ্রেমী মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের সঙ্গে সেলিব্রেশন করেন। হাজারো মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন রাস্তার দু’পাশে। তাদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন ক্রিকেটাররা।
এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেছেন চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ঘুরেফিরে সেখানেও এসেছে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ। শান্ত বলেন, ‘বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে না পারা প্রতিটা ক্রিকেটারের জন্য ডিফিকাল্ট (খারাপ ব্যাপার)। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমরা সবসময়ই চাই ক্রিকেট খেলতে।’
শান্ত বলেন, ‘এখানে বিসিবি বলেন বা যারা দায়িত্বে আছেন তারা আমাদের অভিভাবক। তারা যেটা ভালো মনে করেছেন, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।কিন্ত ক্রিকেটার হিসেবে বলবো খেলতে পারলে ভালো লাগতো। তবে যে সিদ্ধান্তটা আমাদের ক্রিকেট বোর্ড এবং সরকারের তরফ থেকে এসেছে, এটা আমি পূর্ণ সম্মান জানায়।’
তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর ফ্যান ফলোয়ার এবং দর্শকরা আমাদের সাপোর্ট করেছে। আমরা তাদের কাপটা এনে দিতে পেরেছি, এটা একটা গর্বের বিষয়। এই জয়টা রাজশাহীর ক্রিকেটকে অনেক এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। এখানে অনেক ইয়াং ক্রিকেটার রয়েছে যারা স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ টিমে খেলবে, বিপিএল খেলবে। আমি মনে করি তাদেরকে অনেক হেল্প করবে।’
রাজশাহীর ঘরের ছেলে নাজমুল হোসেন শান্ত। আর নিজ এলাকার হয়ে বিপিএলে খেলা এবং ট্রফি জয়, সব মিলিয়ে অনেক বেশি আনন্দিত শান্ত নিজেও। ‘রাজশাহীর হয়ে প্রথম বছর বিপিএল খেলা এবং ট্রফি জয়, এটা বাড়তি আনন্দের বিষয়। রাজশাহীর লোকাল ছেলে হিসেবে প্রথমবার রাজশাহীর হয়ে খেলতে পেরে এবং কাপ জিততে পেরে খুবই আনন্দ পেয়েছি এবং খুবই ভালো লাগছে।’
রাজশাহীর ক্রিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আর আগের মতো হয় না রাজশাহীতে। রাজশাহীর দায়িত্বে যারা আছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলবো- টুর্নামেন্টগুলো আগের মতো আয়োজন করেন। প্লেয়ারদের খেলার সুযোগ তৈরি করে দেন। এখানে মাঠ বা ক্রিকেটের যে ফ্যাসিলিটিগুলো আছে, ঠিকভাবে উন্নত করেন তাহলে আমার মনে হয় বিপিএল বা ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচগুলো রাজশাহীতে আসবে। এর মাধ্যমে রাজশাহীতে বড় বড় ক্রিকেটাররা বের হবে।’
এমআর/টিএ