ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, একমাত্র দল বিএনপিই সব সময় সংস্কারের কথা বলেছে। আমাদের ৩১ দফায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানুষের বাসস্থান, আইনের শাসন, নারী ও যুবকদের উন্নয়নসহ সব সংস্কারের কথা বলা আছে। তারপরেও বিএনপি জুলাই সনদে সই করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট হবে, একটা সংসদ ভোট ও আরেকটা গণভোট। গণভোটে বিএনপির অবস্থান হচ্ছে ‘হ্যাঁ’।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরের সালথা সরকারি কলেজের পাশে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার হা ত ধরেই দেশের সব ভালো কাজ ও সংস্কার হয়েছে। ভবিষ্যতে তারেক রহমানের হাত ধরে হবে। শুধু বৈষম্যের কারণে বহু তরুণ-তরুণী জীবন দিয়েছে। কেউ কেউ টাকা দিয়ে ও তদবির করে চাকরি পেয়েছে। অথচ অনেকে যোগ্য হয়েও চাকরি পায়নি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কোনো ছেলে-মেয়েকে এক টাকাও ঘুষ দিতে হবে না।
কোনো তদবির করতে হবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি পাবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ। দীর্ঘ ১৭ বছর পর সুযোগ এসেছে ভোট দেওয়ার। ভোটের মাধ্যমে সবাইকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আমরা প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখব না। ধানের শীষে ভোট চাইব। সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয়ের জন্য কাজ করব। তিনি বলেন, সালথায় এখনো কাঁচা রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে আমাদের মা-বোন ও মুরুব্বিরা কষ্ট করে চলাফেরা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি আমরা সংসদে যেতে পারি, তাহলে সালথাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব। মা-বোনদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হবে না। সালথা ও নগরকান্দাতে উন্নত মানের হাসপাতাল করা হবে। ভাই-বোনরা যাতে চাকরি করতে পারে, সেজন্য মিল-কারখানা হবে।
বিএনপির এই নেত্রী বলেন, আমার বাবা মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমান সারাজীবন আলেম-ওলামাদের সম্মান দিয়েছেন। মাদরাসা-মসজিদে সহায়তা করেছেন। আমিও সংসদে যেতে পারলে মাদরাসাগুলোর উন্নয়ন ও এমপিওভুক্ত করার চেষ্টা করব। বিএনপির পতাকাতলে আলেম-ওলামাসহ সকল ধর্ম ও মতের মানুষ নিরাপদ।
সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহিন মাতুব্বরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হাবিবুর রহমান হাবিব, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, যুবদল নেতা তৈয়াবুর রহমান মাসুদ, এনায়েত হোসেন, মিরান হোসেন, ছাত্রদল নেতা সাইফুল আলম, রেজাউল ইসলাম রাজ প্রমুখ।
এবি/টিএ