কয়েক বছর ধরে চিত্রনায়িকা মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বসবাস করছেন। মায়ের অসুস্থতা আর মেয়ের পড়াশোনার কারণে পরিবারকে সময় দিচ্ছেন। এর ফাঁকে ‘সুন্দরী পিএস চাই’ নামে টেলিছবির শুটিং করেছেন। তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন অভিনেতা হাসান জাহাঙ্গীর।
টেলিছবিটি প্রচারের পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মৌসুমী বিয়ে করেছেন। এমন গুজব ছড়ানোয় বিব্রত মৌসুমী ও হাসান জাহাঙ্গীর। কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে হাসান জাহাঙ্গীর বললেন মৌসুমী ও তাকে নিয়ে যারা গুজব ছড়াবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি অ্যাকশন নেবেন তিনি।
হাসান জাহাঙ্গীর মনে করেন, মৌসুমী এমন একজন তারকা, যার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো আইনি অ্যাকশনে যাইনি। কিন্তু আমি আইনি অ্যাকশনে যাব, মৌসুমী ও আমি নাকি বিয়ে করেছি। এটা যে কত বড় বিব্রতকর একটা সংবাদ। যেসব পত্রিকা ও যেসব ইউটিউব চ্যানেল আমাদের নিয়ে নিউজ করেছে, তারা এটা ভালো করেনি।
শুধু ভিউয়ের জন্য তারা চিন্তা করেছে; চিন্তা করেনি একজন মৌসুমীর অবস্থান কী? একদিনে কিন্তু একজন মৌসুমী তৈরি হননি। মৌসুমীর প্যারালাল কেউ নেই। মৌসুমীর বিকল্প মৌসুমীই, শাবানা ম্যাডামদের পরে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছেন একজনই, তিনি মৌসুমী। এটা আল্লাহপ্রদত্ত। এমন গুণী একজন মানুষ আমার সহশিল্পী।
নাটকের জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে অভিনেতার ভাষ্য, ‘যে প্রোডাকশনটা করে আমেরিকার মতো জায়গায় এত রেসপন্স, ওখানেও মানুষজনের মুখে মুখে এই নাটকের গল্প। যেটা একটি বার্তা প্রদান করে, যে গল্পে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটা জায়গায় স্বামী তার স্ত্রীকে চাকরি দিয়েছেন, এরপর সেটার পরিণতি কী হয়েছে। গল্পটা মানুষ পছন্দ করেছে। আমেরিকায় অন এয়ার হয়েছে, দেশের জিটিভিতেও প্রচার হয়েছে। আরো তিনটা চ্যানেলে প্রচার হয়েছে।’
অভিনয় করবেন না বলেও মৌসুমী অভিনয় কেন করেছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে হাসান জাহাঙ্গীর বললেন, ‘আপনারা জানেন মৌসুমী এখন আর অভিনয় করেন না। কিন্তু আমার এই টেলিফিল্মে কাজ করেছেন। আরো বেশ কয়েকটা কাজ আমার সঙ্গে করবেন। দেখেন, চিত্রনায়িকা মৌসুমী কি কম বোঝেন? নিশ্চয়ই তার গল্প পছন্দ হয়েছে, টেকনিশিয়ান পছন্দ হয়েছে।
কলাকুশলীদের পছন্দ হয়েছে। আবার মনে করেছেন, ম্যান হিসেবে হাসান জাহাঙ্গীর আমার সহকর্মী হলে নিশ্চয়ই মন্দ হবে না। আমি তো হিরো না, ক্যারেক্টার আর্টিস্ট। হয়তো মনে করেছেন এটা আমার দ্বারা হবে। না হলে তিনি করবেন কেন?’
যুক্তরাষ্ট্রে শুটিং করা খুবই কঠিন। সেখানের অভিজ্ঞতা জানিয়ে এই অভিনেতা বললেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো স্থানে চাইলেই শুটিং করা যায় না। ধরেন, প্রেসিডেন্ট যদি শুটিংয়ে অনুমতি দেন আর স্থানীয় মেয়র যদি অনুমতি না দেন, তাহলে শুটিং করা যাবে না। আবার মেয়র অনুমতি দিলেন, লোকাল কাউন্সিলর বা প্রতিনিধি যদি অনুমতি না দেন, তাহলেও শুটিং করা যাবে না।
তাহলে চিন্তা করেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমি যে শুটিং করি সেটা কতটা কষ্ট হয়। এবার যুক্তরাষ্ট্রে আমি সম্পূর্ণ সিনেমা বানিয়েছি। একদম নতুন গল্প, অনেকদিন পর এমন একটি গল্প মানুষজন দেখতে পাবে।’
ওমর সানী অবশ্য এসব কথায় কিছু মনে করেন না। কারণ তিনি জানেন সামাজিক মাধ্যমে কী চলে। ওমর সানী প্রসঙ্গে হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, ‘নিন্দুকের কথা নিয়ে আর কী বলবেন, এই বয়সে এসে কি আবার বিবাহ করা যায়, এটা কি আমাদের বিবাহের বয়স? তা ছাড়া ওমর সানী ভাইয়ের সঙ্গে আমার একটা ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং কিছুদিন আগেও আমি তাকে নিয়ে একটা ওয়েব সিরিজ করলাম। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক আমার অনেক দিনের। পারিবারিক সম্পর্ক আমাদের।’
মানহানি মামলা করবেন জানিয়ে অভিনেতা হাসান জাহাঙ্গীর বললেন, ‘দেখেন, এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে দিয়ে, আমাদের হাজবেন্ড-ওয়াইফ বানিয়ে দিয়ে সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমার বন্ধু-বান্ধবরা ফোন করে জানতে চাইছে আমাদের সম্পর্ক কেমন যাচ্ছে। আমার আত্মীয়-স্বজনরা ফোন করে জানতে চাইছে আমি মৌসুমীকে বিয়ে করেছি কি না। কী একটা অবস্থা।
এসব ভিউ দিয়ে টাকা বানিয়ে আপনারা কী করবেন? আপনারা ভালো নিউজ করেন। উৎসাহ দেন। শুধু বাংলাদেশ নয়, এটা আরো অন্যান্য দেশ থেকেও ছড়ানো হচ্ছে। আমি শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানাব। এ ছাড়া আমি ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করব, যদি আজকের পর থেকে এমন কোনো নিউজ বা ভিডিও ছড়ানো হয়। মামলা করব সাইবার সুরক্ষা আইনে।’
আইকে/এসএন