সিলভার স্ক্রিনে তাঁর হাসিই ছিল প্রেমের সংজ্ঞা। সময়ের স্রোতে তিনি চুপ হয়ে গিয়েছিলেন, আবার ফিরে এসে বুঝিয়ে দিয়েছেন- কিছু প্রত্যাবর্তন শুধু ক্যামেরার সামনে নয়, আত্মবিশ্বাসেরও।
রবিবার সন্ধ্যায় নিজের অফিসিয়াল এক্স (প্রাক্তন টুইটার) অ্যাকাউন্টে অনুরাগীদের সঙ্গে খোলামেলা কথোপকথনে বসেছিলেন আমিশা প্যাটেল। প্রশ্নের ঝাঁপি খুলে গিয়েছিল-ভবিষ্যৎ কাজ, কেরিয়ার, ইন্ডাস্ট্রির বদলে যাওয়া মুখ-সবকিছুর মাঝেই ধরা পড়ল তাঁর আনকাট অভিব্যক্তি।
একজন ভক্ত জানতে চেয়েছিলেন, সম্প্রতি এমন কী ঘটছে যা তাঁকে হাসতে শেখাচ্ছে। উত্তরে আমিশার কথায় উঠে এল বলিউডের এক নতুন হিসাবনিকাশ। নাম না করেই তিনি বললেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে সিনেমার অর্থনীতি যেভাবে বদলেছে, তাতে বহু ভুল জায়গায় জমে থাকা কৃত্রিম জৌলুস আজ ভেঙে পড়ছে। তাঁর চোখে, এই পরিবর্তন শোধনের মতো-যেখানে যোগ্যরা অবশেষে প্রাপ্য সম্মান পাচ্ছেন, আর যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অযথা আলোয় ছিলেন, তাঁদের সামনে ধরা পড়ছে বাস্তবের আয়না। এই প্রক্রিয়াতেই নাকি লুকিয়ে আছে তাঁর প্রশান্ত হাসি-কারণ পরিবর্তনটা হচ্ছে ভালোর জন্যই।
আড্ডার ফাঁকে উঠে এল স্মৃতির দরজাও। এক ভক্ত আবেগের সঙ্গে জানালেন, তিনি ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ প্রেক্ষাগৃহে দশবার দেখেছেন, আর বললেন-অন্য অনেক অভিনেত্রী নাকি আমিশাকে ঈর্ষা করেন। উত্তরে একেবারেই আলাদা সুরে কথা বললেন তিনি। কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমিশা বললেন, প্রত্যেক অভিনেত্রীর জীবনেই নিজস্ব সাফল্য আছে, নিজস্ব জায়গা আছে। এখানে ঈর্ষার জায়গা নেই-এটা আসলে পারস্পরিক সম্মান আর প্রশংসার ভাষা। আর যদি কোথাও ঈর্ষা থেকেও থাকে, তাতে তাঁর কিছু আসে যায় না-যার যা অনুভূতি, সে সেটাই বহন করুক।
কাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন এড়াননি তিনি। বড়পর্দা না ওয়েব সিরিজ-কোন দিকে ঝোঁক? উত্তরে স্পষ্ট করে দিলেন নিজের অবস্থান। তাঁর কাছে সিনেমা মানে আবেগ, আন্তরিকতা-প্রকল্প নয়, ভালোবাসা দিয়ে তৈরি কাজ। তেমন ছবিই তাঁর প্রথম পছন্দ। পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যে মানসম্মত গল্প আসছে, সেগুলোকেও তিনি স্বাগত জানান। সঠিক চিত্রনাট্য আর নিজের উপস্থিতিকে ন্যায্যতা দেয়-এমন কনটেন্টে কাজ করার জন্য তিনি যে মুখিয়ে, তাও লুকোলেন না।
পাঁচ বছরের বিরতির পর ২০২৩ সালে ‘গদর ২’-এর মাধ্যমে বড়পর্দায় তাঁর প্রত্যাবর্তন শুধু নস্টালজিয়া নয়, বক্স অফিসের ইতিহাসও গড়েছিল। সানি দেওল ও উৎকর্ষ শর্মার সঙ্গে সেই ছবি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬৮৬ কোটি টাকা আয় করে ব্লকবাস্টারের তকমা পায়। এরপর ২০২৪ সালে মুক্তি পায় রোমান্টিক কমেডি ‘তৌবা তেরা জলওয়া’।
ছবিটি সমালোচকদের কাছে খুব একটা প্রশংসা না পেলেও, আমিশার অভিনয় আলাদা করে নজর কাড়ে। আপাতত তাঁর পরবর্তী কাজের ঘোষণা নেই, কিন্তু কথার ভেতরেই স্পষ্ট-তিনি অপেক্ষায় আছেন এমন গল্পের, যা আবার তাঁকে নতুনভাবে আবিষ্কার করবে।
এমআই/এসএন