জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমানের অবশিষ্ট জেরা আজ। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আসামি ১৩ জন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে হাসিনুরের জেরা হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের সামনে বাকি থাকা সাক্ষ্য সম্পন্ন করেন হাসিনুর রহমান। ২৫ জানুয়ারি তার জবানবন্দি শুরু হয়। তিনি এ মামলার দুই নম্বর সাক্ষী। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
জবানবন্দিতে নিজে দুই দফা গুমে থাকার ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। আয়নাঘর নামে পরিচিত ডিজিএফআইয়ের জেআইসিতে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি। তৎকালীন সরকারের নির্দেশে গুম করা হয়েছিল বলে সেই সময় জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান।
দীর্ঘ সাক্ষ্য শেষে তাকে আসামিপক্ষে জেরা শুরু করেন আইনজীবী মাসুদ সালাহউদ্দিন। তবে জেরা সম্পন্ন না হওয়ায় আজ পর্যন্ত মুলতবি রাখেন ট্রাইব্যুনাল। আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুর তাকে জেরা করার কথা রয়েছে। এরপর আসামিপক্ষের অন্য আইনজীবীরা জেরা করবেন। এদিকে, আজও এ মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনকে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হবে। তারা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
এছাড়া পলাতক ১০ আসামির পাঁচজনই ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
বাকিরা হলেন- শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এসবের সময়কাল হলো ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত। এ সময়টায় গুম হন ২৬ জন।
রাষ্ট্রপক্ষ-আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুমের আনুষ্ঠানিক বিচার চলমান রয়েছে।
গুমের মামলায় সর্বপ্রথম গত বছরের ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা তিন সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ৮ অক্টোবর ১৩ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। ওই দিনই তাদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়।
ইউটি/টিএ