যশোরে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা দলীয় রাজনীতির বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।’ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘হ্যাঁ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালানো যাবে না। চাঁদাবাজি হবে না। হ্যাঁ মানে আজাদি।
না মানে গোলামি।’ জামায়াত আমির বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ‘একটি বন্ধু সংগঠন একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলছে, অন্যদিকে মহিলাদের গায়ে হাত দিচ্ছে। যাদের হাতে মা-বোনেরা এখনই নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ থাকতে পারে না।’ গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
যশোর জেলা জামায়াতের আমির, যশোর-৪ আসনে দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তৃতা করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, যশোর-১ আসনের প্রার্থী আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৩ আসনের প্রার্থী আবদুল কাদের, যশোর-৫ আসনের প্রার্থী গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের প্রার্থী মোক্তার আলী, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল প্রমুখ। এদিকে গতকাল দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘আগামীতে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে হ্যাঁ প্রতীকে ভোট দিতে হবে।’ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াত আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাসার, সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী কাজী নজরুল ইসলাম।
নির্বাচনি প্রচারের সময় নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘জনগণের গায়ে হাত দিতে পারবেন, পিঠে চাবুক মারতে পারবেন; কিন্তু হৃদয় জয় করতে পারবেন না। হৃদয় জয় করতে হলে নিজ নিজ জায়গা থেকে মায়ের জাতিকে সম্মান দিতে হবে। আমাদের স্পষ্ট কথা-জীবন দেব, আমার মায়ের ইজ্জত দেব না। মায়ের ইজ্জতের জন্য লড়ে যাব সুতরাং কেউ আর মেহেরবানি করে এই অপকর্ম করবেন না।’ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগরী জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান।
খুলনার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আল্লাহর রহমতে জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে আর কোনো মিলে তালা ঝুলবে না। নতুন নতুন মিল তৈরি করে খুলনার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে।’ সমাবেশে উপস্থিত নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে তাদের জন্য দুটি বিষয় নিশ্চিত করা হবে-বাড়ি, কর্মক্ষেত্রসহ সব জায়গায় মায়ের মর্যাদা এবং পূর্ণ নিরাপত্তা।’
তিনি বলেন. ‘আমরা ১৩ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) থেকে আল্লাহর দরবারে নতুন একটা বাংলাদেশ চাই।’
খুলনাবাসীর ছয় দাবি : বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দলের আমিরের কাছে খুলনাবাসীর পক্ষে ছয়টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো বিলডাকাতিয়া, বিলবাদুড়িয়াসহ সব বিলের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল চালু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা।
জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের জামাই আদরে রাখবে-কৃষ্ণ নন্দী : খুলনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী বলেছেন, ‘অনেকে বলেন জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দুরা এ দেশে থাকতে পারবে না। কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় এলে মুসলমানরা হিন্দুদের এ দেশে জামাই আদরে রাখবে। একজন হিন্দুকেও ভারতে যেতে হবে না।’
ইউটি/টিএ