মধ্যপ্রাচ্যে ‘বহু দিন’ সামরিক মহড়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আগামী বেশ কিছুদিন মার্কিন বিমান বাহিনীর নাইন্থ এয়ারফোর্সের মহড়া হবে। মার্কিন বিমান বাহিনীর নাইন্থ এয়ারফোর্স এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল বা এফসেন্ট নামেও পরিচিত।

সামাজিক যোগোযোগমাধ্যম এক্সে এ বিষয়ক বিবৃতিটি পোস্ট করেছে সেন্টকোম। সেখানে বলা হয়েছে, “ এই মহড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকোম) আওতাভুক্ত এলাকায় শক্তি মোতায়েন, শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা প্রদর্শন করবে এফসেন্ট। বেশ কিছুদিন এই মহড়া চলবে।”

গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরীর একটি বহর। এই বহর আসার পরের দিনই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দিলো সেন্টকোম।

গত ২৬ জানুয়ারি যখন ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নেতৃত্বে মার্কিন রণতরীর বহর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে, সেদিন এক বিবৃতিতে সেন্টকোম জানিয়েছিল, “মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ অঞ্চলের জলসীমায় আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করা হয়েছে।”

চলতি জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল থেকে এই বহর মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়। সে সময় ইরানে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তিক্ততা শুরু হয়েছিল তেহরানের।  ২০২৫ সালের জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তিক্ততর হয়ে ওঠে। গত বছর জুন মাসে এ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতও হয়েছে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপকমাত্রায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ট্রাম্প সে সময় বলেছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভ দমনে নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করে- তাহলে দেশটিতে ফের সামরিক অভিযান হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত সেই সামরিক অভিযান আর হয়নি, তবে তার পরিবর্তে যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠানো এবং সামরিক বিমানের মহড়ার  যে পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন- তা যে কোনো সময় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

কেএন/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
বাংলাদেশের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ না বদলানোর কারণ কী? Jan 28, 2026
img
বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারসহ নিহত ৫, নারী পাইলটের পরিচয় প্রকাশ Jan 28, 2026
img

সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান

গোপন বন্দিশালা আয়নাঘরের দেয়ালে ছিল না কোনো ‘আয়না’ Jan 28, 2026
img
একটা যুগের অবসান, অরিজিৎ প্লেব্যাক ছাড়ায় মনখারাপ দেব-বাদশার Jan 28, 2026
img
সমুদ্রের বুকে ডিজনির জাদুতে কণ্ঠ দেবেন শাহরুখ খান! Jan 28, 2026
img
মদিনায় বিয়ে করে আলোচনায় পাক অভিনেত্রী লাইবা খান Jan 28, 2026
img
অরিজিৎ সিং- এর প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে জানালেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা Jan 28, 2026
img
রোগীদের সেবা গ্রহণ সহজ ও সাশ্রয়ী করবে ডিজিটাল সিস্টেম : ফয়েজ আহমেদ Jan 28, 2026
img
টিভি অভিনেত্রী ও মডেল জেনিফারকে বিয়ের গুঞ্জনে মুখ খুললেন করণ ওয়াহি Jan 28, 2026
img
আগামী ২৬ জুন ২০২৬-এ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ Jan 28, 2026
img
বিশ্বের প্রথম 'স্বর্ণের রাস্তা' তৈরির ঘোষণা দুবাইয়ের Jan 28, 2026
img
মেসি ও রোনালদোর পার্থক্য জানালেন ডি মারিয়া Jan 28, 2026
img
আর্জেন্টিনায় হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্টেডিয়াম Jan 28, 2026
img
৪ বিভাগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন মার্কিন প্রতিনিধিদল Jan 28, 2026
img
আইপিএলে বেঙ্গালুরুর শেয়ার কিনতে পারেন আনুশকা ও রণবীর! Jan 28, 2026
img
এখন আরও দ্বিগুণ উদ্যমে কাজ করছি: রাফসান সাবাব Jan 28, 2026
img
সামরিক ঘাঁটি নিয়ে সমঝোতার লক্ষ্যে বৈঠকে বসছেন পুতিন ও শারা Jan 28, 2026
img
রোডম্যাপ অনুসারে হজের সকল কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে: ধর্ম উপদেষ্টা Jan 28, 2026
img
ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক নৌবহর Jan 28, 2026
img
কত টাকার মালিক অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান? Jan 28, 2026