হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে অনায়াসেই নিজের জায়গা করে নিতে পারতেন অজিত পওয়ার। শৈশব থেকেই ক্যামেরা, লাইট আর শুটিংয়ের আবহে বড় হওয়া এই মানুষটি কাজ করেছেন কিংবদন্তি পরিচালক ভি. শান্তারামের একাধিক ক্লাসিক ছবিতে। তবু পারিবারিক প্রত্যাশা ও ফিল্মি পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও একসময় স্টুডিওপাড়া ছেড়ে রাজনীতির অলিন্দেই নিজের ভবিষ্যৎ খুঁজে নেন তিনি। আজও অনেকের কাছে অজানা থেকে গেছে অজিত পওয়ারের সেই ‘ফিল্মি অধ্যায়’।
শৈশব থেকেই সিনেমার সঙ্গে অজিত পওয়ারের নিবিড় যোগাযোগ। তার বাবা অনন্তরাও পওয়ার ছিলেন ভি. শান্তারামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সেই সূত্র ধরেই তরুণ বয়সে বম্বের ফিল্ম স্টুডিওগুলোর অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন অজিত। ক্যামেরার নেপথ্যের নানা প্রযুক্তিগত দিক, শুটিংয়ের কৌশল, প্রোডাকশনের খুঁটিনাটি—সবকিছুর হাতেখড়ি হয়েছিল তখনই। বাবার হাত ধরে স্টুডিওপাড়ায় যাতায়াত করতে করতেই সিনেমার প্রতি গভীর অনুরাগ জন্ম নেয় তার।
পরবর্তীতে শান্তারামের টিমের সদস্য হিসেবে রাজকমল স্টুডিওতে কাজ শুরু করেন অজিত পওয়ার। প্রোডাকশন বয় হিসেবে যুক্ত ছিলেন একাধিক কালজয়ী ছবির সঙ্গে। সেই তালিকায় রয়েছে ‘ড. কোটনিস কি অমর কাহানি’, ‘দো আঁখে বরহ হাত’, ‘ঝনক ঝনক পায়েল বাজে’, ‘নবরং’, ‘দুনিয়া না মানে’, ‘অমর ভূপালি’-এর মতো চলচ্চিত্র। কর্মদক্ষতার জোরে দ্রুতই পরিচালকের নজরে পড়ে যান তিনি। স্টুডিওর কর্মব্যস্ত পরিবেশেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল তার সিনেমা-জীবন।
পরিবারের ইচ্ছাও ছিল, অজিত পওয়ার বড় হয়ে ফিল্মিদুনিয়াতেই কেরিয়ার গড়বেন। কিন্তু জীবনের হিসেব বদলে যায় ভিন্ন পথে। শোনা যায়, দীর্ঘদিন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত থেকেও বাবার প্রাপ্য স্বীকৃতি না পাওয়ার কষ্ট অজিতকে নাড়া দিয়েছিল। সেই আক্ষেপ থেকেই হয়তো ধীরে ধীরে সিনেমা জগতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় তার। শেষ পর্যন্ত কাকা শরদ পওয়ারকে আদর্শ মেনে রাজনীতির পথই বেছে নেন তিনি।
তবে রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও সিনেমার প্রতি অজিত পওয়ারের ভালোবাসা কখনোই কমেনি। তার প্রমাণ মিলেছে নাসিকের কাছে ইগতপুরিতে ফিল্ম সিটি গড়ে তোলার উদ্যোগে। মুম্বাই থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একটি ফিল্মনগরী গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নির্মাতাদের আকৃষ্ট করা এবং হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করা। এই উদ্যোগই দেখিয়ে দেয়, রাজনীতির ব্যস্ততার মাঝেও সিনেমা ছিল অজিত পওয়ারের হৃদয়ের খুব কাছের বিষয়।
হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে এমন গভীর সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও অজিত পওয়ারের এই অধ্যায় দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থেকেছে। তার আকস্মিক প্রয়াণে বলিউড যে একজন নীরব অভিভাবককে হারাল, তা সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এমকে/টিএ