ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেছেন, জামায়াতের আমির ‘মেয়ে বন্ধুরা’ বলে বেপর্দা নারীদের পাশে বসিয়ে সেলফি তোলেন, যা ইসলামী আন্দোলন পারে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাতীবান্ধা উপজেলা শাখা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই জনসভার আয়োজন করে।
মুফতি রেজাউল করিম বলেন, ‘জামায়াতের আমির (ডা. শফিকুর রহমান) যেরকম বলেছিলেন যে, “ছেলেরা সরো, মেয়ে বন্ধুরা এখন তোমরা আসো”। তার পাশে বসিয়ে সেলফি তোলে এই মুরুব্বি মানুষ। বেপর্দা মেয়েদের সাথে। এখন এটা তো ইসলামী আন্দোলন পারে না।’
নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মেয়ে ও ছেলেদের ভিতরে চলার পার্থক্য এটা কি আমরা করছি না আল্লাহ করছে? মেয়েরা মেয়েদের অবস্থানে থাকবে, ছেলেরা ছেলেদের অবস্থানে থাকবে। মেয়েদের সম্মান সবচেয়ে বেশি দিয়েছে ইসলাম।’
ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে জামায়াতের অবস্থানের সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী নাম দিয়ে জামায়াতের নেতৃত্বে যারা রয়েছেন, জামায়াতের আমির পরিষ্কার বলেছেন যে তারা ইসলামের নীতি-আদর্শ ও শরীয়ত অনুযায়ী দেশ চালাবেন না। হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীকে প্রশ্ন করা হলে তিনিও বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী তো ইসলামী দল না। কর্নেল অলি আহমেদও বলেছেন, জামায়াতের আমির বলেছেন তারা ইসলামী নীতি-আদর্শ ও শরীয়ত অনুযায়ী দেশ চালাবেন না।’
জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসুল (স.) এসেছিলেন মিথ্যাকে দূর করার জন্য। আর আজকে যাদের পা থেকে মাথার তালু পর্যন্ত সব মিথ্যায় ভরা, এরা আবার বলে ইসলাম কায়েম করবে। আবার বুঝায় যে এখন তো কৌশল করা লাগে, পরবর্তীতে ইসলাম কায়েম করবে। এই ইসলাম বাঘে খাইছে। ওই ইসলাম কোনোদিন ইসলাম হিসেবে আসবে না। এটা সম্পূর্ণ একটা ধোঁকাবাজি কথা।’
এছাড়াও মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে ‘জঙ্গি’ হিসেবে উপস্থাপনের জন্য জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সমালোচনা করেন রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আমেরিকা দূতাবাসে বসে আমাদের দেশকে, আমাদের দেশে জঙ্গি আছে এটা প্রমাণ করার জন্য ইসলামী আন্দোলনকে জঙ্গি হিসেবে সেখানে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ হোক বিএনপি হোক, কেউ কিন্তু কখনোই স্বীকার করে নাই যে আমাদের দেশে জঙ্গি আছে।’
ইসলামী আন্দোলন কোনো উগ্রবাদী দল নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে যখন বাপ ছেলেকে ফেলে রেখে পালায়, তখন ইসলামী আন্দোলন জানের ঝুঁকি নিয়ে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেছে। ৫ আগস্টের পর সংখ্যালঘুদের জান-মাল ও উপাসনালয় পাহারার দায়িত্ব পালন করেছে।’
জনসভায় হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে এবং শান্তির লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি ফজলুল করীম শাহরিয়ারকে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
টিজে/টিকে