বিপিএলের দ্বাদশ আসর শেষ হয়েছে সপ্তাহ খানেক আগে। টুর্নামেন্টের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ফাইনালের আগেই ক্রিকেটার, কোচদের পারিশ্রমিক শতভাগ পরিশোধ করেছে। অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজিও বেশিরভাগ টাকা ইতোমধ্যে দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু।
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মিঠু বলেছেন, ‘প্লেয়ারদের পেমেন্ট নিয়ে এখনও আমাদের কিছু জানায়নি। প্রথম থেকেই আর্থিক একটা অঙ্ক (১০ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি) নিরাপত্তা হিসেবে জমা আছে। আমরা একটা চিঠি ইস্যু করেছি সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে– তোমরা আমাদের জানাও (প্লেয়ারদের পেমেন্টের) স্ট্যাটাস কী? এটা দিলে আমরা প্লেয়ারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করব। আমরা দেশি-বিদেশি প্লেয়ার ও টিম ম্যানেজমেন্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টা খতিয়ে দেখব। ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব পেমেন্ট দিতে বলেছি। এর মধ্যে প্লেয়ারদের পাওনা থাকলে গ্যারান্টি থেকে (পরিশোধ করা হবে)।’
‘নোয়াখালী (এক্সপ্রেস) আগে যে হিসাব দিয়েছিল, এরপর নোয়াখালীর সব প্লেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, অনেক টাকাই দিয়ে দিয়েছে। কাগজে-কলমে দেখাচ্ছে ১ কোটির মত বাকি, আমাদের কাছে পে-অর্ডার আছে ২ কোটি টাকা। বিদেশি প্লেয়ারদের সঙ্গে এখন যোগাযোগ করব। ১৫ দিন সময় দিয়েছি। আগেই যদি শেষ হয়ে যায়, নোয়াখালীর মালিক এবং বাকি প্লেয়ারদের ডাকব। উনাদের সামনেই বাকি টাকাটা ফেরত দেওয়া হবে’, আরও যোগ করেন ইফতেখার রহমান মিঠু।
ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পারিশ্রমিক পরিশোধের তথ্য জানিয়ে বিসিবির এই পরিচালক বলছেন, ‘রাজশাহী সবাইকে পেমেন্ট করে সার্টিফিকেট নিয়ে নিয়েছে। টাকা দিলেই ফাইল ক্লোজ।
চট্টগ্রামকে (রয়্যালস) আমরা ৫০ শতাংশ দিয়েছি, ৫০ শতাংশ প্রসেসে আছে। রংপুর সবসময় ভালোভাবে পে করে দেয়। ঢাকা এবং সিলেট বাকি (দেখতে হবে)। তারাও যোগাযোগ করেছে। তাদের লিস্টটা দিতে হবে।’
এর আগে হঠাৎ করেই সিলেট টাইটান্স ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যান তারকা পেসার মোহাম্মদ আমির। তার পারিশ্রমিক বকেয়া আছে বলে ওই সময় শোনা যায়। এই প্রসঙ্গে মিঠু জানান, ‘ওর চুক্তিটা দেখাক, কত পেয়েছে, নিশ্চয়ই রিসিভ করেছে কিছু টাকা, সেটা দেখাক। আমরা যত দূর জানি সিলেটও পুরো টাকা দিয়ে দিয়েছে, আমির বাদে। তবে আমরা (আমিরের সঙ্ড়ে) কথা বলব, লিস্টটা পেয়ে গেলে। ৫ কোটি টাকা চেক আর ৫ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি আছে।’
এবার পারিশ্রমিক বকেয়া থাকার বিষয় দীর্ঘায়িত হবে বলেও আশা মিঠুর, ‘আমি অত চিন্তিত না, সময় আছে। সামনের ১৫ দিনে নোয়াখালী সব টাকা দিয়ে দিলে আমরা তাদের টাকাটা ফেরত দিয়ে দেব।’ এ ছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের মডেল প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘সবাই এটাকে সমর্থন দিয়েছে। আগেরবার টিকিটের টাকা শেয়ার করা হয়েছিল। এবার গ্রাউন্ডস রাইট, টিভি রাইট এবং টিকিট, সব এক করে খরচ বাদ দিয়ে যে টাকা থাকবে, সেটার ৩০ শতাংশ আমরা দিয়ে দেব। এখন কত কী এটা ধারণা করতে পারেন, আমি তো বলতে পারছি না। প্রসেসটা শুরু হয়েছে। এত অল্প সময়ে যা হয়েছে, এটা মেনে নিতে হবে।’
টিজে/এসএন