মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডায় নির্মিত সব ধরনের উড়োজাহাজের সনদ (সার্টিফিকেশন) বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি গালফস্ট্রিম উড়োজাহাজকে যদি কানাডায় দ্রুত সনদ না দেওয়া হয়, তাহলে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া সব উড়োজাহাজের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বিশেষভাবে কুইবেকভিত্তিক বোম্বার্ডিয়ার কোম্পানির তৈরি গ্লোবাল এক্সপ্রেস বিজনেস জেটের নাম উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘কানাডায় তৈরি সব উড়োজাহাজ’ এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে।
ট্রাম্পের অভিযোগ, কানাডা একই ধরনের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে গালফস্ট্রিম উড়োজাহাজের বিক্রি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। তিনি লেখেন, পরিস্থিতি অবিলম্বে সংশোধন না হলে কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখনো পর্যন্ত হোয়াইট হাউস কোনো নির্বাহী আদেশ প্রকাশ করেনি।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্ট সরাসরি উড়োজাহাজের সার্টিফিকেশন বাতিল করেননি। এই সিদ্ধান্ত সাধারণত ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)-এর মতো কারিগরি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।
এভিয়েশন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যারোডাইনামিক অ্যাডভাইজরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিচার্ড অ্যাবুলাফিয়া বলেন, ‘বাণিজ্যযুদ্ধে উড়োজাহাজের নিরাপত্তাকে হাতিয়ার বানানো ভয়ংকর ধারণা।’ তার মতে, সব কানাডিয়ান উড়োজাহাজ স্থগিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনব্যবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেবে।
বোম্বার্ডিয়ার শুধু বিজনেস জেটই নয়, আঞ্চলিক যাত্রীবাহী সিআরজে উড়োজাহাজও তৈরি করে। এসব উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রে ইউনাইটেড, ডেল্টা ও আমেরিকান এয়ারলাইন্সের আঞ্চলিক ফ্লাইটে ব্যবহৃত হয়, যা ছোট বিমানবন্দর থেকে বড় শহরে যাত্রী পরিবহন করে।
এভিয়েশন বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে কানাডায় তৈরি ৬৪৮টি সিআরজে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চালু আছে। এসব উড়োজাহাজ প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে এবং প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার যাত্রীকে সেবা দেয়।
এই উড়োজাহাজগুলো গ্রাউন্ডেড হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে গ্রামীণ ও ছোট শহরের বিমানবন্দরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আঞ্চলিক এয়ারলাইন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৪ শতাংশ বিমানবন্দরের ফ্লাইট সেবা আসে আঞ্চলিক এয়ারলাইন থেকে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো আঞ্চলিক এয়ারলাইন উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধের কথা জানায়নি বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন রিজিওনাল এয়ারলাইন অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী ফে মালার্কি ব্ল্যাক।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যে ‘সব উড়োজাহাজ’ বলতে কেবল বিমান নাকি হেলিকপ্টারও অন্তর্ভুক্ত তা স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, কানাডা বেসামরিক হেলিকপ্টারের বড় সরবরাহকারী দেশ, যার মধ্যে চিকিৎসা জরুরি সেবায় ব্যবহৃত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স হেলিকপ্টারও রয়েছে।
এই হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার সর্বশেষ অধ্যায়। ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে।
এমআই/এসএন